শিরোনাম
সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত চন্দনাইশে কার্ভাড ভ্যান ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত-৩ চন্দনাইশের গাউসিয়া কমিটির আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত লালমোহন চরকচুয়ায় সরকারি গাছ কাটা বাধা দেওয়ায় হামলা- আহত ১৫ চন্দনাইশে বিওয়াইসিএফ’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত পোরশা থানায় পুলিশ সুপারের আগমন উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত বান্দরবানে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিনব্যাপী গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান প্রকাশিত হয়েছে জাহানারা মতিনের কাব্যগ্রন্থ ‘শখের সমাধি’ মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী ধুনটে আইনজীবীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ইফতার মাহফিল
শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬
শনিবার ১৪ মার্চ ২০২৬

ইঁদুরের গর্তের ধান সংগ্রহ বিচিত্রময় মৌসুমি পেশা

আলোকিত স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ

Image

ইঁদুরের গর্তে জমানো ধান ও ফসল যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের আর্থিক মূল্যের অপচয় রোধ করছে বিচিত্রময় পেশার নর-নারী ও কিশোর-কিশোরীরা। মাটির গর্তে ইঁদুর ধান ও দানাদার শস্য জাতীয় ফসল লুকিয়ে রাখে। সেই ফসল মাটি হতে তুলে বিচিত্র পেশার মানুষ।


ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, কালাই জাতীয় দানাদার শস্য পাকলে সেই জমিতে ইঁদুরের উপদ্রপ বেড়ে যায়। ইঁদুর জমিতে বিশাল বিশাল গর্ত খুঁড়ে তাতে শস্য জাতীয় ফসল লুকিয়ে রাখে। যার অর্থনৈতিক মূল্য নেহাত কম নয়, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। গ্রাম-গঞ্জে ফসল কেটে নেয়ার পর দরিদ্র পরিবারের কিশোর-কিশোরী ও নারী-পুরুষ মাটির গর্তে ইঁদুরের লুকিয়ে রাখা ফসল উদ্ধার করতে দেখা যায়। অনেকে এটাকে মৌসুমি জীবিকা হিসেবে নিয়েছে। আপাতত দৃষ্টিতে এটা নিছক শখের পেশা হলেও যার সমষ্টি গত অর্থনৈতিক মূল্য অনেক। কৃষি বিভাগের এক তথ্যে যার বাজার মূল্য প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। তাইতো শত শত বছর ধরে উত্তরাঞ্চলের গ্রামে ইঁদুরের গর্তের শস্য উত্তোলনে এমন বিচিত্র পেশার মানুষকে দেখা যায়। এই পেশার কারণে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ফসল রক্ষা পাচ্ছে। এতে দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা একদিকে যেমন নিজেরা ফসল চাষ না করেও প্রতি বছর পতিত ফসল রক্ষা করে আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করছে। অন্যদিকে বিশাল অংকের জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।


এই বিচিত্র পেশার মানুষের কারণে ইঁদুরের গর্তে শতশত মন ধান, গম ও দানাদার জাতীয় ফসল মাটির নিচে পচে যাওয়া হতে রক্ষা পাচ্ছে। তাই ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা শস্য সংগ্রহের বিচিত্র পেশাকে অর্থনৈতিকভাবে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।


কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ইঁদুর বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে থাকে। ইন্ডাষ্ট্রিয়াল অপচয়ের পরিমাণ এর চেয়ে অনেক গুণ বেশি। তাই প্রতি বছর জাতীয় ইঁদুর নিধন অভিযান সপ্তাহ পালন করে থাকে কৃষি মন্ত্রণালয়। ইঁদুর নিধনে সফল মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।



প্রতিনিয়ত ইঁদুর কৃষকের কষ্টার্জিত ফসলের কয়েক গুণ নষ্ট করে থাকে। এ ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। গত বছর প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ইঁদুর নিধনের মাধ্যমে প্রায় ৮৯ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা।


কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ২০১৯ সালেও ইঁদুর নিধন অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার ইঁদুর নিধন করে ৩০০ কোটি টাকার ফসল রক্ষা করা হয়েছিল। ইঁদুরের ব্যাপক ক্ষতি থেকে ফসলকে রক্ষা করার পাশাপাশি ইঁদুর নিধন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার আহ্বান চলমান রয়েছে কৃষি বিভাগের।


এদিকে কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, দেশের উত্তরাঞ্চলে জেলাগুলোতে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা দানাদান শস্য জাতীয় ফসল ধান, গম ও ডাল উদ্ধারে স্বেচ্ছায়প্রণোদিত হয়ে একশ্রেণির নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী প্রতি বছর কৃষি ফসলের মাঠে কাজ করছে। কোনো কোনো সময় কৃষক নিজেও মাটি খুঁড়ে ফসল উদ্ধার করে থাকে। সাধারণত লালমনিরহাট জেলায় গ্রামে-গঞ্জে শীত মৌসুমে ধান, গম, সরিষা, ভুট্টা ও কালাই খেত কেটে নেয়ার পর পরিত্যক্ত ফসলের মাঠের ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ফসল উদ্ধার করে থাকে। এই সময় যারা ফসল উদ্ধার করে তারাই উদ্ধারকৃত ফসলের মালিক হয়ে যায়। জমির মালিক বা বর্গাচাষিকে সেই উদ্ধারকৃত ফসলের কোনো অংশ দিতে হয় না।


ইঁদুরের উপদ্রব বেশি হলে উল্টো ইঁদুর নিধনে গর্ত খুড়ে ইঁদুর মেরে ফেলার জন্য প্রতি ইঁদুরে ১০ টাকা করে পারিশ্রমিক দিয়ে থাকে। ইঁদুর মারায় পারর্দশীদের গ্রামে বিশেষ কদর রয়েছে। এদিকে দেখা গেছে ধান কেটে আনার মৌসুমে গ্রামে নানা ধরনের সদাই-পাতি নিয়ে ফেরিওয়ালা আগমন ঘটে। তখন গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে থাকে ধান। ধানকে বিনিময় মূল্য ধরে গ্রামের নারীরা সদাই-পাতি ও দৈনন্দিন সামগ্রিক ক্রয় করে থাকে। গ্রামে এই সময় মলা, মুড়ি, মুড়কি ফেরি করে বিক্রি করতে দেখা যায়। এই মুড়ি, মুড়কি ফেরিওয়ালা কাছ হতে কিনে খেতে গ্রামের কিশোর-কিশোরী ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান-গম উদ্ধার করতে দেখা যায়। তারা দল বেধে পরিত্যক্ত ফসলের মাঠে গর্তের মাটি সরিয়ে ধান উদ্ধার করে ফেরিওয়ালাকে দিয়ে বিনিময়ে মলা, মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, খুরমা নিয়ে থাকে। কেউ কেউ এই ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে খাতা, কলম, পেন্সিলসহ নিজের ব্যক্তিগত খরচ মিটিয়ে থাকে। এতে পরিবার কিছুটা হলেও আর্থিক সাশ্রয় পায়।


কেউ কেউ এই ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান সংগ্রহকে জীবিকা হিসেবে মৌসুমি পেশা করেছে। তেমনি একজন কৃষি শ্রমিক জান্নাতি বেগম- তিনি জানান, আমন ধান কেটে নিয়ে গেলে পরিত্যক্ত কৃষি জমিতে পড়ে থাকা ধানের শীর্ষ ও ঝরে পড়া ধান কুড়াই। এই সময় জমিতে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান সংগ্রহ করে থাকি। প্রতিদিন এভাবে ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে গড়ে এক মন ধান উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এতে ৫/৭ টাকা দৈনিক হাজিরা পড়ে যায়। পরিশ্রম ও কায়িকশ্রম কম হয়। ধানের মৌসুমে প্রায় এক মাস এই মৌসুমি ইঁদুরের গর্তেরধান সংগ্রহের পেশা চলে।


তিনি আরও বলেন, ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান ও গম সংগ্রহে জমির মালিক বাধা দেয় না। বরং তারা উৎসাহিত করে থাকে। কারণ গর্তে লুকিয়ে থাকা ইঁদুর ধান সংগ্রহের সময় মারা পড়ে এতে ইঁদুরের হাত হতে পরের ফসল রক্ষা হয়। দ্বিতীয়ত ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে নিচের মাটি উপরে ও উপরের মাটি নিচে যায়। এতে জমির মাটির উর্বরা শক্তি বাড়ে। তাই ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে রাখা ধান সংগ্রহের পেশার কৃষি অর্থনৈতিক মূল অনেক। ফসল রক্ষা, সম্পদ অপচয় রোধ ও জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।


আরও খবর




সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে কার্ভাড ভ্যান ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত-৩

চন্দনাইশের গাউসিয়া কমিটির আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

লালমোহন চরকচুয়ায় সরকারি গাছ কাটা বাধা দেওয়ায় হামলা- আহত ১৫

চন্দনাইশে বিওয়াইসিএফ’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পোরশা থানায় পুলিশ সুপারের আগমন উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিনব্যাপী গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান

প্রকাশিত হয়েছে জাহানারা মতিনের কাব্যগ্রন্থ ‘শখের সমাধি’

মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী

ধুনটে আইনজীবীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ইফতার মাহফিল

গঙ্গাচড়ায় বার্ডফ্লুতে নিমিষেই শেষ খামারির স্বপ্ন

মুরাদনগরে জুমার নামাজের পর কৃষকের ঘর পুড়ে ছাই, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

শাজাহানপুরে যুবদল ও কৃষকদলের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

মাগুরায় গাছের ডাল পড়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

মুরাদনগরে গণঅধিকার পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

শ্যামনগরে গৃহবধূ তামিমার মৃত্যু ঘিরে রহস্য,আটক স্বামী

রাজশাহীতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী সভা, দ্রুত ন্যায়বিচারে সামারি ট্রায়ালের ওপর জোর

নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে মোবাইল কোর্টে ভুয়া সাংবাদিকের কারাদণ্ড

গুরুদাসপুরে দুই গৃহবধুকে পিটিয়ে জখম

‎টেক্সটাইল দূষণ মোকাবিলায় নরসিংদীর গবেষকের আন্তর্জাতিক সাফল্য

রামপালে ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীদের সংবাদ সম্মেলন

আল্লাহর নৈকট্যের পথে এক মাসের বিশেষ সফর

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে নতুন প্রিন্সিপালের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, সন্তুষ্ট অভিভাবকরা

কুমিল্লা হতে সংরক্ষিত মহিলা এমপি হতে চান শামীমা আক্তার রুবী,নিজ এলাকাজুড়ে ইতিবাচক সাড়া

কাউন্সিলর থেকে মেয়র পদের দৌড়ে: ভোলা পৌরসভায় আলোচনায় হুমায়ুন কবির সোপান

ধুনট আল-কুরআন একাডেমিক স্কুলে অভিভাবকদের ফ্রি কুরআন শিক্ষার ক্লাস

গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন,লাল সভাপতি ও রিজু সাধারণ সম্পাদক

পদোন্নতির দাবিতে উত্তাল দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড

বিশ্বদৃষ্টি সম্পাদক সম্মাননা পদক পেলেন মুরাদনগরের শামীমা আক্তার রুবি

রামপালে সাংবাদিকের নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে অপপ্রচার, থানায় সাধারণ ডায়েরি


এই সম্পর্কিত আরও খবর

সোনারগাঁয়ে জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

চন্দনাইশে কার্ভাড ভ্যান ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত-৩

চন্দনাইশের গাউসিয়া কমিটির আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

লালমোহন চরকচুয়ায় সরকারি গাছ কাটা বাধা দেওয়ায় হামলা- আহত ১৫

চন্দনাইশে বিওয়াইসিএফ’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পোরশা থানায় পুলিশ সুপারের আগমন উপলক্ষে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

বান্দরবানে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৩ দিনব্যাপী গঙ্গাপূজা ও বারুণী স্নান

মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনে পানিসম্পদ মন্ত্রী

ধুনটে আইনজীবীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ইফতার মাহফিল

গঙ্গাচড়ায় বার্ডফ্লুতে নিমিষেই শেষ খামারির স্বপ্ন