
আহম্মদ কবির,স্টাফ রিপোর্টার:টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত জলরাশিতে প্রকৃতির জন্য নির্ধারিত কিছু নীরব অঞ্চল রয়েছে,যেখানে মানুষের উপস্থিতি ও নৌযানের চলাচল নিয়ন্ত্রিত। জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে ঘোষিত এসব এলাকায় প্রবেশ না করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড স্থাপন,গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও তা উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ৬টি হাউসবোটকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) জেলা প্রশাসন,সুনামগঞ্জ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএভুক্ত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ৫ ধারা লঙ্ঘন করে সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ৬টি হাউসবোটকে মোট ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসন, সুনামগঞ্জের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিবুর রহমান। প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর,সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো.সাইফুল ইসলাম।অভিযান চলাকালে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভ্রমণরত হাউসবোটের যাত্রী ও পর্যটকদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের বিধিনিষেধ, পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর মানবসৃষ্ট চাপের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করে তাহিরপুর থানা পুলিশ।উল্লেখ্য,এর আগে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড,বিলবোর্ড ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পর্যটক,হাউসবোট মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এরপরও কিছু হাউসবোট বিধিনিষেধ অমান্য করে সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করায় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশগত ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পর্যটক,হাউসবোট মালিক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।




























