
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মণ্ডল, গাজীপুর
গাজীপুরের কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি এলাকায় চলমান ভূমি জরিপ (সেটেলমেন্ট) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাকে ঘিরে নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাশিমপুর ও কোনাবাড়ি এলাকায় প্রায় পাঁচটি স্থানে মৌজাভিত্তিক ভূমি জরিপের তসদিক কার্যক্রম চলছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ তাদের জমির রেকর্ড সংশোধন, মালিকানা যাচাই ও অন্যান্য জরিপসংক্রান্ত কাজে এসব ক্যাম্পে আসছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নিয়মে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও একটি অসাধু দালালচক্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিয়মের পরিবেশ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, রেকর্ডের অসঙ্গতি, কাগজপত্রে সামান্য ত্রুটি কিংবা অন্যান্য জটিলতার কথা বলে অনেকের কাছ থেকেই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। নির্ধারিত অর্থের বাইরে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, কাজ বিলম্বিত করা বা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার ঘোরানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
একাধিক সেবাগ্রহীতা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট তসদিক ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী পেশকারদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভূমি জরিপ কার্যক্রমে দালালদের অবাধ যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। তাদের মতে, সরকারি সেবা যদি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে দালালচক্রের প্রভাব অনেকটাই কমে আসবে।
এ বিষয়ে কোনাবাড়ি ক্যাম্পের অভিযুক্ত পেশকার হেলাল উদ্দিনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায় নি।
সংশ্লিষ্ট সেটেলমেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, ভূমি জরিপ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ক্যাম্পে সরকারি ফি-তালিকা দৃশ্যমানভাবে টাঙানো, দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা এবং উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের মতে, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে এবং সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে।
ভূমি মানুষের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ। সেই সম্পদের রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা যদি অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ নাগরিকই। তাই কাশিমপুর ও কোনাবাড়ির চলমান ভূমি জরিপ কার্যক্রমে উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




























