
মোঃ নুর আলম পাপ্পু খোকসা কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের এক তরুণীকে কু-প্রস্তাব দেওয়া, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে জানিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরসহ দুইজনের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা মো. আনিছ শেখ।
থানায় দাখিল করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী তরুণী প্রায় নয় মাস একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ওই সময় জানিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ মো. সাইদুল ইসলাম (৩৫) তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে থাকার প্রস্তাব দেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অপর অভিযুক্ত মো. রবিউল ইসলাম ভুক্তভোগীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট ও টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেন। এছাড়া মোবাইল ফোনে ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রাণনাশের হুমকি এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে তার সংসার ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, হাফেজ মো. সাইদুল ইসলাম অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করেন এবং তাকে নিজের মামাতো ভাই পরিচয় দিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, কু-প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তরুণীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা, সামাজিক অপপ্রচার কিংবা আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে হাফেজ মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ওই তরুণীর সঙ্গে রবিউল ইসলামের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটি তারা নিজেরাই ভালো বলতে পারবে। আমাকে অযথা এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।
অপর অভিযুক্ত মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি তাদের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, তরুণীর বিয়ে হয়ে গেছে, এ বিষয়টি তিনি জানতেন না। তার ভাষ্য, যদি সে আমাকে জানাত বা নিষেধ করত, তাহলে আমি এসব ছবি প্রকাশ করতাম না।
তবে তাদের মধ্যে পূর্বে সম্পর্ক ছিল, এ দাবির পক্ষে কোনো যোগাযোগের তথ্য, বার্তা বা অন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হলে মো. রবিউল ইসলাম তা দেখাতে ব্যর্থ হন।
এদিকে, খোকসা থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী পরিবার।




























