
স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে ‘মামলা বাণিজ্য’ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ভয় দেখিয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ অভিযোগের তীর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক রোকনুজ্জামান রোকন ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেনের দিকে। অভিযোগকারীদের দাবি, মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নীরবে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। তবে মামলার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুশুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মীর কাছ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মথুরেশপুর ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকেও ২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একই কৌশলে মোট প্রায় অর্ধকোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন,মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন কাজীর প্রভাবকে ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানার জন্য কৃষকদলের আহবায়ক ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য,গত ১২ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে অবস্থিত বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কৃষ্ণনগর এলাকার আবুল হোসেন খাঁর ছেলে রেজাউল করিম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৮৬ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তবে মামলাকে কেন্দ্র করে ওঠা নতুন চাঁদাবাজি ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




























