
।মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা): সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা মালিকবিহীন প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য, নেশাজাতীয় দ্রব্য, ঔষধ, ইনজেকশন, সিগারেট ও জর্দ্দা ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সদর দপ্তরে এ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিবিএম।প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত তিন বছরে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদক ধ্বংসের মাধ্যমে সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষার একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আজকের মাদক ধ্বংসের এই অনুষ্ঠানটি একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান মাত্র।তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু একটি অবৈধ দ্রব্য নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। মাদক তরুণ সমাজের স্বপ্ন, মেধা ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে। সীমান্ত ব্যবহার করে অসাধু চক্র যাতে দেশে মাদক প্রবেশ করাতে না পারে, সে লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এসময় তিনি সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা ও সবশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।তিনি আরো বলেন, “ভারত থেকে পুশইন বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। গত তিন বছরে এই দুই ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক ও জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক রয়েছে আড়াই শতাধিক আসামি।” তবে মাদক নির্মূল শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাদক নির্মূল করা সম্ভব বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি বিজিবির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন।লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ আলী বলেন, “২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করেছে।উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল ভারতীয় হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ দশমিক ৩১ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৪৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৩ হাজার ৩৩৮টি আইপি ইনজেকশন, ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২টি সেডেক্সো ট্যাবলেট, ২৮ হাজার ৮০০টি টাপেন্টা ট্যাবলেট, ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০টি নিমোসলাইড ট্যাবলেট, ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০টি সিপ্রোহেপটাডিন ট্যাবলেট, ৪ লাখ ৪২ হাজার ১০১টি ট্রামাডল ট্যাবলেট, ২ হাজার ২৮০ বোতল ল্যাব জিনসেন, ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ পিস সিনিক জেড, ৩০ হাজার ৫০ প্যাকেট সিগারেট, ২৪০ প্যাকেট জর্দ্দা ও ৪০ প্যাকেট বিড়িসহ বিভিন্ন মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য রয়েছে। এছাড়া খোলা মদ, হারবাল রেড (ইউনানী), ফরমুলা সিরাপ, ডেক্সলন ট্যাবলেট, ভায়াগ্রা ও রুটারেক্সসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক ও উত্তেজক সামগ্রী রয়েছে বলেও জানান তিনি ।কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, “সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি মাদক উদ্ধারে সফলতা দেখাচ্ছে। আমরা আশা করব সকল বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। আমরা সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করতে চাই।”মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ্ রুজি আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।




























