
মো :আজিজুর রহমান। নড়াইল জেলা প্রতিনিধি। নড়াইলের তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক মাহবুবুর রহমান গ্রেপ্তারের পর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ঘটনার সময় মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক কেউ কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের বিষয়টি জানাননি। এমনকি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও জানানো হয়নি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় আনা, দায়িত্ব দেওয়া এবং ঘটনার পর বিষয়টি না জানানোর সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, মাহবুবুর রহমান অপরাধ করে থাকলে তাঁর বিচার ও শাস্তি হওয়া উচিত। তবে শুধু তাঁকে গ্রেপ্তার করলেই বিষয়টির পুরোপুরি সমাধান হবে না। ঘটনার আগে ও পরে মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা কি ছিল সেটিও তদন্ত করা দরকার। কমিটির সভাপতি বলেন, প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণের কথা বলে ছুটিতে যাওয়ার আগে মাহবুবুর রহমানকে মাদ্রাসার দায়িত্ব দিয়ে যান। মাহবুবুর রহমানকে কীভাবে মাদ্রাসায় আনা হলো এবং তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কমিটির ওই সদস্য আরও বলেন, ‘ঘটনাটি যখন ঘটেছে, তখন কমিটির সভাপতি বা কোনো সদস্যকে জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও জানানো হয়নি। আশপাশের লোকজনও বিষয়টি জানতেন না। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির মা থানায় গিয়ে মামলা করেন।’ মামলার সাক্ষী নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা। তাঁদের দাবি, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের ভাগ্নে হিসেবে পরিচিত একজন সহকারী শিক্ষক মামলার সাক্ষী হয়েছেন। এ ছাড়া নাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে মামলার প্রথম সাক্ষী করা হয়েছে। মাদ্রাসায় তাঁর দায়িত্ব ও ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাঁদের। কমিটির আরেক সদস্য বি এম আশিকুর ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসা কমিটির কেউ কিছুই জানে না। প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ মাদ্রাসায় এসে সব দায়িত্ব নিয়ে নেন। পরে ৪৫ দিনের প্রশিক্ষণের কথা বলে ছুটিতে চলে যান। যাওয়ার আগে মাহবুবকে দায়িত্ব দিয়ে যান।’ আশিকুর ইসলামের অভিযোগ, মাহবুবুর রহমানকে মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানতেন না বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহর সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা তদন্ত করা প্রয়োজন। আশিকুর ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক যদি এভাবে দায়িত্ব দিয়ে না যেতেন, তাহলে হয়তো আমাদের মাদ্রাসায় এমন ঘটনা ঘটত না। আমরা তাঁকেও আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানাই।’ কমিটির সদস্যরা বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটলে সেটির সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাঁরা মাদ্রাসায় নতুন করে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবার ভর্তি করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থী বলাৎকারের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরদিন ২৮ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটির মা বিষয়টি জানতে চাইলে ঘটনা জানাজানি হয়। এরপর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান মাদ্রাসা থেকে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নড়াইল সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গাজীপুর মহানগরের গাছা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা হওয়ার প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।





























