
ইয়ার রহমান আনানঃ কক্সবাজার ব্যুরোমাতামুহুরি প্রতিনিধি: নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রাহ্মণপাড়ায় ট্রান্সফরমার থেকে সরাসরি অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে টমটমের গ্যারেজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে আবু ওমর নাসির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মিটার থাকা সত্ত্বেও সেটিকে লোক দেখানো হিসেবে রেখে পাশের ট্রান্সফরমার থেকে সরাসরি লাইন টেনে গ্যারেজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল।অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৩০ আগস্ট) কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চকরিয়া কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে চকরিয়া পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ এমরান গণিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আবু নাসিরের টমটমের গ্যারেজে ব্যবহৃত কথিত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সেখানে থাকা মিটারও নিয়ে যায় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্যারেজটির পাশে থাকা ট্রান্সফরমার থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টমটমের ব্যাটারি চার্জসহ বিভিন্ন কাজে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিয়মিত বৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিবর্তে এভাবে বিদ্যুৎ নেওয়ার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।এলাকাবাসীর ভাষ্য, ‘মিটার ছিল, কিন্তু সেটি মূলত লোক দেখানো—গ্যারেজের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো হতো অন্য লাইন দিয়ে’—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ছিল। অবশেষে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকায় কেউ প্রভাবশালী হলে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত নয়। তাদের দাবি, শুধু একটি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই যেন অভিযান শেষ না হয়; অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি কতদিন ধরে চলছিল, কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আবু নাসির স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন জায়গা অবৈধভাবে দখলেরও অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অভিযানে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ চুরি বা অবৈধ সংযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোক, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।অভিযোগের বিষয়ে আবু ওমর নাসিরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার জব্দ করায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন ধরে যদি সত্যিই অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





























