শিরোনাম
পত্নীতলায় ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার পত্নীতলায় নজিপুর বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষের চারা বিতরণ নাঙ্গলকোট বাজার ব্যবসায়ী সংস্থা নির্বাচনে ৫৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী রায়হান মজুমদার খারাপ ফলাফলের জন্য এমপিও বন্ধের সুপারিশ করব: পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, মোঃ ফরিদ মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অষ্টগ্রামে মানববন্ধন কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের মতবিনিময় সভা মুরাদনগরে বিশেষ শিশুদের ‘প্রতিভা’ স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত,অনুদান ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড় অতীতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা হয়েছে,এখন জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে চাইছে একটি দল: মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ লালমোহনে সরকারি টেকনিক্যাল কলেজসহ দুই প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি
সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬
সোমবার ০২ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে সামাজিক মাধ্যম

আলোকিত সকাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত:শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২৩ জানুয়ারী ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ

Image

মার্কিন দার্শনিক হেনরি থরো বলেছিলেন, ‘ভোট আসলে এক ধরনের জুয়া। অনেকটা দাবা কিংবা পাশা খেলার মতো।’ ভোটের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকার বিষয়টি আমলে নিয়ে এটিকে সম্প্রসারিত করে বলা যেতে পারে, ‘ভোট হলো এক ধরনের জুয়া, যেখানে দাবার চাল অনেকটাই নির্ধারিত হয় ডিজিটাল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে।’


এটার প্রমাণ পাওয়া যাবে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকেন্দ্রিক কার্যক্রম থেকে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ভোটকে সামনে রেখে তাদের ‘থিম সং’ বানিয়েছে। বিএনপির থিম সং–এর মূল ফোকাস রাখা হয়েছে দলের প্রতীক ‘ধানের শীষে।’ জামায়াতে ইসলামীর থিম সং–এ ফোকাস রাখা হয়েছে, তাদের দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লাকে।’ একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) তাদের থিম সং–এ প্রাধান্য দিয়েছে দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলিকে।’


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। এই নির্বাচন মূলত বিএনপি এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নিচ্ছে। মাঠপর্যায়ের প্রচার শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে অনলাইনে রাজনৈতিক দলগুলোর লড়াই চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই।


তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনে এই তরুণ ভোটাররাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল এবং এবার সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা বড় হতে পারে। জামায়াতের নির্বাচনী গান ‘নৌকা, ধানের শীষ, লাঙল দেখা শেষ, দাঁড়িপাল্লা এবার গড়বে বাংলাদেশ।’ গানটি প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোড়ন তোলে। আর এই আলোড়নই অন্য দলগুলোকেও গান বানানোর প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য করে। কারণ, এখন নির্বাচনে কেবল জনসভাই আর মানুষের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নয়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সমান শক্তিশালী।


এই গানের সুরকার ও শিল্পী লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা হাসান আল–বান্না। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, গানটি শুরুতে ঢাকার এক প্রার্থীর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন গানটি শেয়ার করতে শুরু করে, তখন অন্য প্রার্থীরা বুঝতে পারেন—এটি সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করছে। এরপর তাঁরাও এটি ব্যবহার শুরু করেন।’


বিএনপিও তাদের নিজস্ব প্রচারের গান প্রকাশ করেছে। গানের কথায় বলা হয়েছে, দলটি নিজেদের আগে দেশকে গুরুত্ব দেয়। গানের কথায় বলা হয়, ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ।’


অবশ্য, বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারে গানের ব্যবহার এই প্রথম নয়। আর আগেও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’ শীর্ষক গান বানিয়েছিল।


একাধিক জনমত জরিপে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় সামান্য এগিয়ে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের গঠিত এনসিপিও একটি গান প্রকাশ করেছে। তবে ডিজিটাল মাধ্যমে গান কেবলই জনসংযোগের একটি টুল। একটি বিশাল ডিজিটাল প্রচারের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ছোট ছোট নাটকীয় ভিডিও, ভোটারদের আবেগঘন সাক্ষাৎকার, নীতিনির্ধারণী ব্যাখ্যা ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট এখন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে গেছে।


এ বছর অনলাইন লড়াই শুধু সংসদ নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়। ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভোটারেরা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নামে একটি সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেবেন। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো স্থায়ী করতে এই সনদ অনুমোদন জরুরি।


বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ কোটি। এটি দেশের আনুমানিক ১৭ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ। ডাটা রিপোর্টাল নামের এক বৈশ্বিক ডিজিটাল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারী, প্রায় ৫ কোটি ইউটিউব ব্যবহারকারী এবং প্রায় ৯২ লাখ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী আছে। এ ছাড়া, ১৮ বছরের বেশি বয়সী ৫ কোটি ৬০ লাখের বেশি টিকটক ব্যবহারকারী রয়েছে। এর বিপরীতে, এক্সে বাংলাদেশিদের আনাগোনা খুবই কম—মাত্র প্রায় ১৭ লাখ ৯০ হাজার।


বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ডিজিটাল উপস্থিতিই রাজনৈতিক দলগুলোকে অনলাইনে বড় বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৪৩ দশমিক ৫৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। এই তরুণদের বেশির ভাগই প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন, অথবা শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজেদের কার্যত ভোটাধিকারহীন মনে করতেন। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ছিল অনিয়ম, বিরোধীদের দমন এবং বয়কটের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ। এসব নির্বাচন কার্যত ‘প্রহসনের ভোটে’ পরিণত হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতাই তরুণদের হতাশা থেকে এবার ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পে পরিণত করেছে।


পিউ রিসার্চ মার্কিন নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করে এক গবেষণায় তুলে এনেছে, প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সামাজিক মাধ্যম থেকে নির্বাচনের খবর নেন এবং এটি তাঁদের রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সোজা ভাষায় বললে, সামাজিক মাধ্যম মানুষের রাজনৈতিক পক্ষপাতই কেবল বাড়ায়। নির্বাচনে ডিসইনফরমেশন বা অপতথ্যের প্রভাব নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণার ভিত্তিতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি দেখিয়েছে, অ্যালগরিদমের সহায়তা নিয়ে কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করা যায় এবং নির্বাচনের ফলাফল নিজের পক্ষে নেওয়া সম্ভব হয়।


২০২৪-২৫ সালের এক গবেষণায় স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, ভোটাররা সত্যের চেয়ে নিজের দলের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেয়। মানুষ এখন এমন এক ধরনের ‘ইকো-চেম্বারে’ বাস করে যেখানে সে কেবল নিজের বিশ্বাসের প্রতিফলনই দেখতে চায়। এমনকি তথ্য ভুল হলেও, তা যদি নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে যায়, তবে মানুষ তা বিশ্বাস করতে দ্বিধা করে না। আর এই বিষয়টিকে আমলে নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের পক্ষে ভোটার টানার লক্ষ্যে কাজ করে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এবারের নির্বাচনে যেন বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে।


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে। ফলে দলটি ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এর ফলে, আসন্ন ভোট কার্যত দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। একদিকে রয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। তারা নিজেদের আওয়ামী লীগের শাসনামলের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যা, গুম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপি ১৯৯১–৯৬ এবং ২০০১–০৬ এই দুই সময়ে দেশ শাসন করেছে। অন্যদিকে রয়েছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট, যেখানে তরুণদের দল এনসিপিও অন্তর্ভুক্ত।


বিএনপি নেতা মাহদি আমিন আল-জাজিরাকে বলেন, তাঁর দলটি অনলাইনে নীতিগত প্রস্তাবগুলো ছড়িয়ে দেওয়া ও ভোটারদের মতামত সংগ্রহে জোর দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি দল, যার শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের প্রতিটি খাতে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।’


অনলাইন সম্পৃক্ততা বাড়াতে বিএনপি ‘MatchMyPolicy. com’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে ভোটারেরা দলের প্রস্তাবিত নীতির পক্ষে বা বিপক্ষে মত দিতে পারেন। জামায়াতে ইসলামীরও ‘janatarishtehar.org’ নামে একটি ওয়েবসাইট রয়েছে। দলটি বলছে, ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতেই তারা ইশতেহার প্রস্তুত করছে। জামায়াত নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, তাঁদের অনলাইন প্রচারের লক্ষ্য হলো ‘আমরা যে বয়ানে বিশ্বাস করি, তা তুলে ধরা।’ অন্য দলগুলোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যদের দেখি, কিন্তু অনুসরণ করি না। আমাদের প্রতিযোগিতা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক।’


বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখনই কাউকে স্পষ্ট বিজয়ী বলা যাবে না। ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মুবাশার হাসান বলেন, দুই পক্ষের কৌশলে পার্থক্য আছে। তাঁর মতে, বিএনপি তাদের প্রতিশ্রুতি ছোট ভিডিও ও গ্রাফিক কার্ডে উপস্থাপন করছে। যেমন—‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প। এতে ৫০ লাখ নারী ও পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আরেকটি হলো ‘ফার্মার কার্ড’। এতে কৃষকদের জন্য সার, বীজ ও কীটনাশকের ন্যায্যমূল্য, প্রণোদনা, সহজ ঋণ ও বিমার কথা বলা হয়েছে।


মুবাশার হাসান বলেন, অন্যদিকে, জামায়াতপন্থী কনটেন্টে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের মতোই দেখানোর চেষ্টা বেশি দেখা যায়। ফ্যাক্টচেক সংস্থা দ্য ডিসেন্টের সম্পাদক কদরউদ্দিন শিশির আল জাজিরাকে বলেন, জামায়াতঘেঁষা অনলাইন প্রচারণায় ভারতবিরোধী বার্তাও গুরুত্ব পাচ্ছে। শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ভারতে পালিয়ে যান এবং সেখানেই আছেন। ঢাকা একাধিকবার তাঁকে ফেরত চাইলেও দিল্লি সাড়া দেয়নি। শিশির বলেন, এই বিষয়টিও মিম ও কপিক্যাট ফরম্যাটে তরুণদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।


এ বছর অনলাইন লড়াই শুধু দল বনাম দল নয়। এটি সংস্কারের বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে গণভোটকে ঘিরেও। অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই সনদের’ পক্ষে ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, মূলধারার গণমাধ্যমের প্রভাব কমে যাওয়ায় অনলাইন প্রচার জরুরি হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘মূল ধারার মিডিয়া আগের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে না। সংস্কারগুলো স্থায়ী করতে জনসমর্থন দরকার।’


সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তদারকি বাড়ানো, নির্বাচনে কারচুপি ঠেকানো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্বৈরতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন রোধে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের গর্ভ থেকে জন্ম নেওয়া এনসিপিও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অনলাইনে প্রচার চালাচ্ছে।


বিশ্লেষক ও কনটেন্ট নির্মাতারা বলছেন, মাঠের প্রচার এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জামায়াতপন্থী ভাইরাল গানের নির্মাতা হাসান আল–বান্না বলেন, সরাসরি প্রচারের সঙ্গে এখনো কোনো কিছুর তুলনা হয় না। তবে তিনি বলেন, ‘অনলাইন প্রচার মানুষকে কী নিয়ে কথা বলবে, সেই বিষয় ঠিক করে দেয়।’ বাংলাদেশের মতো তরুণ ভোটারসমৃদ্ধ দেশে, এই আলোচনাই জয় আর পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।


তবে এরও উল্টো পিঠ আছে। অপতথ্য ও অপপ্রচারের সুযোগও এখন অবারিত। রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত চরিত্রহনন, তাদের ব্যাপারে ভুয়া ও অপতথ্য ছড়ানো বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিসরে খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া, ব্যক্তির দুর্বলতার জায়গা টার্গেট করে অ্যালগরিদমের কারসাজির মাধ্যমে ব্যক্তিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা তো থাকছেই। যদিও বাংলাদেশে এই ধরনের মাইক্রো–লেভেল প্রচেষ্টা খুব একটা বড় পরিসরে শুরু হয়নি।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মগুলো তৈরিই করা হয়েছে এমনভাবে, এখানে ধ্রুব সত্যের চেয়ে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব আর ডাহা মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়া অনেক বেশি সহজ। বাস্তব আর অলীক—এই দুয়ের মাঝখানের ফারাক বুঝে নেওয়ার যে ক্ষমতা আমাদের ছিল, এই মাধ্যমগুলো ক্রমেই সেটিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।’


তাঁর এই কথার প্রমাণ পাওয়া যায় একাধিক গবেষণা থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকেরা ২০০৬–১৭ সাল পর্যন্ত টুইটারের প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার খবরের ওপর এক বিশাল ডেটাভিত্তিক গবেষণা চালিয়েছেন। তাঁদের সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে—সত্য খবরের চেয়ে মিথ্যা বা ভুয়া খবর ৬ গুণ দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছায়। সত্য খবর খুব কম সময়ই ১ হাজার মানুষের বেশি পৌঁছাতে পারে, অথচ শীর্ষ ১ শতাংশ ভুয়া খবর অনায়াসেই ১ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। উপাত্ত বলছে, ভুয়া খবরের সঙ্গে ‘বিস্ময়’ এবং ‘ঘৃণা’র মতো আবেগগুলো বেশি যুক্ত থাকে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।


লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের ‘ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট’ গবেষণায় দেখা গেছে, ভোটারদের ডিজিটাল আচরণের ওপর ভিত্তি করে ফলাফল বদলে যায়। একজন ভোটার ইন্টারনেটে কী খুঁজছেন বা কোন পোস্টে লাইক দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে তাঁকে দিনে গড়ে ৪ থেকে ৭টি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। তাদের গবেষণা আরও বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার মূলত সেই ১৫-২০ শতাংশ ভোটারকে লক্ষ্য করে করা হয়, যাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এই তথ্যের ভিত্তিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল মাইক্রো-টার্গেটিংয়ের পেছনে।


ওবামার সাবেক উপদেষ্টা অ্যালেক রস বলেন, ‘আপনার অজান্তেই আপনার পকেটে থাকা ওই ছোট্ট যন্ত্রটি আপনার রাজনৈতিক অভিভাবক হয়ে উঠেছে। আপনি ঠিক কী ভাবছেন, কোন আবেগে আপনার বুক কাঁপে—সবটাই তার নখদর্পণে। আর এই সবটুকুকে পুঁজি করেই ও নিঃশব্দে কেউ দূর থেকে ঠিক করে দিচ্ছে, আগামীকালের ব্যালট পেপারে আপনি কার নামের পাশে সিলটা দেবেন।’ 


আরও খবর




পত্নীতলায় ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার

পত্নীতলায় নজিপুর বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষের চারা বিতরণ

রাসেল হত্যা মামলায় শামীম ওসমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

নাঙ্গলকোট বাজার ব্যবসায়ী সংস্থা নির্বাচনে ৫৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী রায়হান মজুমদার

বোয়ালখালীতে ট্রেনের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ, আহত চালক

খারাপ ফলাফলের জন্য এমপিও বন্ধের সুপারিশ করব: পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, মোঃ ফরিদ মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে অষ্টগ্রামে মানববন্ধন

কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাইভেট ক্লিনিক মালিকদের মতবিনিময় সভা

মুরাদনগরে বিশেষ শিশুদের ‘প্রতিভা’ স্কুলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত,অনুদান ঘোষণা ধর্মমন্ত্রীর

সমবায় থেকে সমৃদ্ধির পথে, তাহিরপুরে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

ঘুষ-বাণিজ্য থেকে কালিগঞ্জের নায়েব আশরাফুজ্জামানের সম্পদের পাহাড়

টাঙ্গাইলে ব্র্যাকের আর্থিক সহায়তায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন বিদেশফেরত নারীরা

অতীতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা হয়েছে,এখন জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা করতে চাইছে একটি দল: মুরাদনগরে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

কিশোরগঞ্জে মৃত্তিকা প্রতিবন্ধী শিশু পাঠশালা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সভাপতি নির্বাচিত সাংবাদিক নাসরুল আনোয়ার

নন্দীগ্রামে ফুটবল নিয়ে মাঠে নামল যুবদল, মাদকবিরোধী টুর্নামেন্ট

জনপ্রিয়তার শীর্ষে ১০ নং গড়জরিপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ জলিল

সশস্ত্রবাহিনী বোর্ডের সচিবের সাথে সাক্ষাৎ: সৈনিকদের রেশন ও ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পে’সহ ৫ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা

গাজীপুরে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

গাজীপুরের কাশিমপুরে পিকআপসহ আটক ৩ জন কোথায় গেলেন?

স্বপ্নের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় গোলজার হোসেনের

রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ,মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেয়ার অভিযোগ

গাজীপুর জেলায় অনুষ্ঠানে অসকস নেতৃবৃন্দের মিলনমেলা

উলিপুরে জমি দখল করে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

রূপগঞ্জে ভূয়া দলিল ও জালিয়াতি করে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

শ্যামনগর-কালিগঞ্জে ডিলারদের জিম্মি করে মাসে দেড় লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

নাঙ্গলকোটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা-ভাঙচুর,আহত ২

তিন দশকের পথচলার অবসান: খবরের কাগজ হাতে আর দেখা যাবে না নিতাইকে

আমতলীতে ১৪৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বাউফলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চাঁদা দাবির ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, সাইবার ট্রাইবুনালে মামলা

রাজশাহীতে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন


এই সম্পর্কিত আরও খবর

পুষ্টি নিরাপত্তায় খাদ্য ফোর্টিফিকেশন জোরদারের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

শিশুদের মালিকানাবোধেই লুকিয়ে আছে জলবায়ু সংকটের সমাধান

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

কপ৩১-এর প্রস্তুতি: জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে সংসদে তরুণদের সম্মেলন

অস্ত্রের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ী আলহাজ সোহাগ

তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে কষ্টে ফেলা যাবে না: পীর সাহেব চরমোনাই

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হাম-ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

গুজব ও উস্কানি রুখে প্রমাণনির্ভর রাজনীতি চর্চার আহ্বানে ঢাকায় প্রচারণা