
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইরে বহুল আলোচিত শীর্ষস্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী রাজ্জাক বাহিনীর সঙ্গে পুলিশের ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে ইসদাইর নতুন রাস্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, রাজ্জাক বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ও পাথর নিক্ষেপ করলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এতে রাজ্জাক বাহিনীর প্রধান রাজ্জাকের ছেলে জসিম (২৬) গুলিবিদ্ধ হন। পরে জসিম ও তাঁর সহযোগী মোহন (২২)কে একটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সংঘর্ষে দুই উপপরিদর্শকসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. রফিক (বিপিএম), উপপরিদর্শক নন্দন কুমার সরকার ও কনস্টেবল রাসেদুল ইসলাম। তাঁদের চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে রাজ্জাক, তাঁর শ্যালক ইয়াদ আলী ও ছেলে ওয়াসিমের নেতৃত্বে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চাষাড়া রেলস্টেশন থেকে ইসদাইর নতুন রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছিল। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজিজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।
পুলিশের ভাষ্য, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাজ্জাক বাহিনীর সদস্যরা রেললাইনের ওপর থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গুলি চালান। তখন আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলির মুখে হামলাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ধাওয়া করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিম ও মোহনকে আটক করে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, রাজ্জাক ও তাঁর ছেলে কয়েকদিন আগে জামিনে কারাগার থেকে বের হন। শনিবার দুপুরে রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইসদাইর নতুন রাস্তার দিকে আসছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এ সময় পুলিশও পাল্টা আট রাউন্ড গুলি চালায়। এতে পুলিশের দুই এসআইসহ তিন সদস্য আহত হন।
আহত উপপরিদর্শক মো. রফিক বলেন, রাজ্জাকের নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চাষাড়া থেকে ইসদাইর নতুন বাজারের দিকে আসছে—এমন খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে রেললাইনের ওপর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলি চালানো হয়। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাজ্জাক ও তাঁর ছেলে জসিম কারাগার থেকে জামিনে বের হন। জামিনে বের হওয়ার পর তাঁরা ইসদাইর এলাকায় পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে চাষাড়া রেলস্টেশন ও ইসদাইর নতুন রাস্তা এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।
ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।





























