
স্টাফ রিপোর্টার: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর হাওরের নির্মল জলরাশি উপভোগ করতে এসেছিলেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে। কিন্তু সেই আনন্দভ্রমণ শেষ হলো এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। টাঙ্গুয়ার হাওরের মোহনীয় প্রকৃতি দেখতে এসে আর জীবিত ফেরা হলো না প্রবীণ পর্যটক আলী আকবর খানের (৭২)। ফিরলেন নিথর দেহ হয়ে।শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের ওয়াচ টাওয়ার সংলগ্ন করচগাছ এলাকায় গোসল করতে নেমে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। পরে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহত আলী আকবর খান সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি গ্রামের মৃত আহমেদ আলী খানের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার সাভারের জাহাঙ্গীরনগর হাউজিং সোসাইটির বি-ব্লকের ১ নম্বর রোডে বসবাস করতেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মদন উপজেলার উচিতপুর ঘাট থেকে ৩২ জন পর্যটক নিয়ে একটি নৌকা টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। আলী আকবর খান তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাসহ ওই নৌকায় ভ্রমণে অংশ নেন।বিকেলে পর্যটকরা ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় নেমে গোসল করছিলেন। এ সময় আলী আকবর খান একটি করচগাছ ধরে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে তার হাত ফসকে গেলে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি।নিহতের মেয়ের জামাতা খাইরুল হাসানের বন্ধু ও ভ্রমণসঙ্গী আনিসুর রহমান জানান, আলী আকবর খান দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কিত হয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাফিসাদ আহমদ বলেন, বিকেল ৫টার দিকে এক পর্যটককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোসলের সময় পানিতে তলিয়ে গিয়েছিলেন।তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গোসল করার সময় হাত ছুটে পানিতে তলিয়ে যান আলী আকবর খান। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।প্রকৃতির টানে আসা এক আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। টাঙ্গুয়ার হাওরের শান্ত জলরাশি শুক্রবার যেন আরেকটি বেদনাদায়ক স্মৃতির সাক্ষী হয়ে রইল।





























