
সিকদার আকাশ
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) ছাড়া আধুনিক জীবনে এগিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে গাজীপুরে যাত্রা শুরু করেছে প্র্যাকটিক্যাল আইসিটি এডুকেশন সেন্টার, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা MD. Kawsar Ahammed এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাকেন্দ্রটি মূলত HSC ও Honours পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ICT বিষয়ক দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করছে। এখানে শুধু তাত্ত্বিক পাঠদান নয়, বরং বাস্তবমুখী ও হাতে-কলমে শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে HSC-ICT, Honours-ICT এবং ২০২৬ সালের জন্য বিশেষ ব্যাচ চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের C Programming ও Database-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরাসরি কম্পিউটারের মাধ্যমে শেখানো হয়, যা তাদের বাস্তব জীবনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে।
এই শিক্ষাকেন্দ্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ICT Academic Full Course, সৃজনশীল ও মানসম্মত পাঠদান, CQ ও MCQ মডেল টেস্ট এবং পরীক্ষাভিত্তিক প্রস্তুতি।
প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান— “শিখানো হয় জীবনে একবার, আর নয় প্রাইভেট কোচিং বার বার।”
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা গাজীপুরের মাওনা এলাকায়, পিয়ার আলী কলেজের উত্তর পাশে অবস্থিত। এছাড়া কালিয়াকৈর (ফুলবাড়িয়া) এলাকাতেও আরেকটি শাখা চালু রয়েছে। ফলে আশপাশের শিক্ষার্থীরা সহজেই এই শিক্ষাসেবা গ্রহণ করতে পারছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের মুখস্থভিত্তিক পড়াশোনা থেকে বের করে এনে চিন্তাশীল (thinking-based) শিক্ষায় অভ্যস্ত করতে চাই। ICT এমন একটি বিষয়, যেখানে বুঝে শেখা এবং প্রয়োগ করার দক্ষতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
একজন শিক্ষার্থী জানান, “আগে ICT বিষয়টা অনেক কঠিন মনে হতো। কিন্তু এখানে প্র্যাকটিক্যালভাবে শেখানোর কারণে এখন বিষয়টি সহজ মনে হচ্ছে এবং নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।”
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ICT বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষ প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





































