
মাসুম বিল্লাহ রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সমূদ্র উপকূলের জেলেদের জীবিকার স্বপ্নে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ। প্রতিটি মৌসুমেই বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমায় নদী কিংবা সাগড়ের বুকে। সেই স্বপ্ন কখনো কখনো ঢেউয়ের সঙ্গে দুলে ওঠে, আবার কখনো খালি হাতে ঘাটে ফেরার সঙ্গে ভেঙে পড়ে। মাছ প্রতিটি জেলের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। আজ ইলিশ নেই, কাল হয়তো জালে রুপালির ঝিলিক দেখা দেবে। এই আশাতেই আবার নদী কিংবা সাগরে নামেন তারা। একটি জালের সঙ্গে যেন জুড়ে দিচ্ছেন পরিবারের বেঁচে থাকার আশা। কিন্তু সেই আশার আড়ালে রয়েছে গভীর হতাশা। ভরা মৌসুমেও জালে কাঙ্খিত ইলিশ না ওঠায় অনেক জেলের মুখেই এখন দুশ্চিন্তার ছাপ।স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাঙ্গাবালী জেলেদের জন্য প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই নতুন কিছু নয়। সাগরে লঘুচাপ বা বৈরী আবহাওয়া তৈরি হলে উত্তাল হয়ে ওঠে সমুদ্র। তখন নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক জেলেকেই দ্রুত ঘাটে ফিরতে হয়। জুলাই-আগষ্ট মাসেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাঙ্গাবালীর হাজারো জেলেকে সাগর থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল ঘাটে। ফলে একদিকে সমুদ্রের মাছের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে আবহাওয়ার ঝুঁকি। এই দুইয়ের মধ্যে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন উপকূলের জেলেরা। কারন মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বেশিরভাগ জেলে ধারদেনা করে জ্বালানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে হয়েছে। কাঙ্খিত মাছ না পেলে ফিরে এসে সেই দেনা পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়ে অসহায় জেলেদের।সমূদ্রগামী জেলে মোঃ ইব্রাহীম বলেন, ‘এ সময়টাতে আমরা আশা করি নদী-সাগরে ভালো ইলিশ পাব। কিন্তু অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না। ট্রলার নিয়ে সাগরে গেলে জ্বালানি, বরফ, খাবারসহ অনেক খরচ হয়। মাছ না পেলে সেই খরচই দেনা হয়ে যায়। আবহাওয়া খারাপ হলে সাগরে যাওয়া যায় না। আবার আবহাওয়া ভালো থাকলেও অনেক সময় জালে ইলিশ ওঠে না। ফলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়।’স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, জেলেরা মাছ না পেলে আমাদের ব্যবসাও ভালো থাকে না। আগে মৌসুমে আড়তে মাছ আসত, ক্রেতা-বিক্রেতার ব্যস্ততা থাকত। এখন অনেক সময় পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যায় না। জেলেদের যেমন লোকসান হচ্ছে, ব্যবসায়ীদেরও পুঁজি আটকে যাচ্ছে।রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন ও প্রজননের সঙ্গে নদী ও সাগরের পরিবেশ, পানির প্রবাহ, বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিষয় জড়িত। পাশাপাশি ইলিশের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ, নিষেধাজ্ঞা পালন করে জাটকা রক্ষা করাও দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে মৎস্য বিভাগের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।’শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইলিশ কমে যাওয়ার কারণ খুঁজতে এর পুরো জীবনচক্র ও অভিবাসনপথ বিবেচনায় নিতে হবে। সাগর থেকে নদীতে আসার পথে নির্বিচারে মাছ ধরা, অবৈধ ও ছোট ফাঁসের জাল এবং অতিরিক্ত আহরণের কারণে অনেক ইলিশ প্রজননের সুযোগ পাওয়ার আগেই ধরা পড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, চর ও পলি জমা, নদী দখল ও দূষণও ইলিশের চলাচল ও প্রজনন পরিবেশকে বাধাগ্রস্থ করছে। মা ইলিশ ও জাটকা নিধন অব্যাহত থাকায় প্রজননক্ষম মাছ কমার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ইলিশের মজুদও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।’




























