
মোঃ ইব্রাহিম হোসেন : প্রায় দেড় কেজি হেরোইনসহ এক কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। সোমবার (রাত সাড়ে ১১টা) সাভার থানার পশ্চিম রাজাশন এলাকার বিরুলিয়া রোডের আমতলা পালোয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. হৃদয় হোসেন (২৭) সাভার উপজেলার দেওগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এসময় তার কাছ থেকে ১ কেজি ২৪৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মঙ্গলবার সকালে র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন। র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে হৃদয়কে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হেরোইন সংগ্রহ করে সাভারসহ আশপাশের এলাকায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতেন। স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ রয়েছে, হৃদয় দেওগাঁও-রাজাশন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কথা বলছেন এলাকাবাসী। পাঁচই আগস্টের পূর্বে ছাত্রলীগের হয়ে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, সাভার থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ শাহীন, হৃদয়ের আপন ভাই । সাভার থানা যুবদল নেতা তাইজুল ইসলাম এবং সাভার থানা ছাত্রদল নেতা মাহবুব ও স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় হৃদয় দীর্ঘদিন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। এছাড়াও ঢাকা-১৯ (সাভার ও আশুলিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম ভাঙিয়েও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে হৃদয়ের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন আমরা আতঙ্কে ছিলাম। এখন কিছুটা হলেও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।





























