
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা।
শহরের বাইরে প্রত্যন্ত জনপদ, আর্থিকভাবে সাধারণ ও খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তানদের নিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজ। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৮১ দশমিক ৭৯ শতাংশ পাসের হার অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় প্রশংসা ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩২৪ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৬৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩ জন ছেলে এবং ৬ জন মেয়ে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে কলেজটির অবস্থান ৩৪তম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজটি দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে আসছে। বিশেষ করে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, কৃষক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া পরিবারের সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাহবুব আলম মিয়া বলেন, “২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় এমন ফলাফল অর্জন করায় আমরা ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজ পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। প্রত্যন্ত এই জনপদে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমাদের এ অর্জন অনেক বড় প্রাপ্তি। ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া অভিভাবকদের সন্তানদের এই সাফল্য গভর্নিং বডির সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সম্মানিত শিক্ষক মণ্ডলীর দিনরাত পরিশ্রমের ফসল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের এই ফলাফল সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও কলেজের শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা, পরামর্শ ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করছি।”
কলেজের সভাপতি ও ১২ নম্বর কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার বলেন, “ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এই সাফল্য শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়, এটি আমাদের পুরো এলাকার গর্ব ও আনন্দের বিষয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ পরিবারের সন্তানরাও সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে ভালো ফলাফল করতে পারে, এ অর্জন তার উজ্জ্বল প্রমাণ। কলেজের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং শিক্ষার মান বাড়াতে আমরা সব সময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। এ সাফল্যের পেছনে অধ্যক্ষ, শিক্ষক মণ্ডলী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গভর্নিং বডির সম্মিলিত অবদান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কলেজকে আরও এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
এদিকে, কলেজের এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে আনন্দ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং পরিচালনা পর্ষদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠান আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে ধুবনী কঞ্চিবাড়ী ডিগ্রি কলেজের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
































