
মো. একরামুল হক,
স্টাফ রিপোর্টার:
কৃষক বাবার ঘর থেকে উঠে এসে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কাজিপুর গ্রামের মো. রনি আহমেদ রাসেল। তিনি ১০৭তম মেধাক্রম অর্জন করেছেন। সীমিত সামর্থ্য ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে রনির এ সাফল্যে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
রনির বাবা মো. ফজলুল হক কৃষিকাজ করে সংসার চালান। মা মোছা. আজমিয়ারা বেগম। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বাবা-মা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তাঁদের সহযোগিতা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে রনি শিক্ষাজীবনে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন।
রনি ২০১৫ সালে ঝাপরাকাজিপুর আবদুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস করেন। পরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রি অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ইন মেডিসিন ডিগ্রিও অর্জন করেন।
কর্মজীবনে বর্তমানে রনি জয়পুরহাট সদর উপজেলার হাটিল শাখায় সোনালী ব্যাংক পিএলসির অফিসার (জেনারেল) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসির অফিসার (ক্যাশ) পদেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
নিজের সাফল্যের বিষয়ে মো. রনি আহমেদ রাসেল বলেন, “এই অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগ, পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাবা-মা আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, “৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। ভবিষ্যতে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে চাই।”
রনির বাবা মো. ফজলুল হক বলেন, “কৃষিকাজ করে কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছি। ছেলে আজ বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। ছেলের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
রনির মা মোছা. আজমিয়ারা বেগম বলেন, “ছেলের পড়াশোনার জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছি। তার এই সাফল্যে আমাদের সব কষ্ট সার্থক হয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে ভালো রাখেন এবং মানুষের সেবা করার তৌফিক দেন।”
রনির সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে রনি এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক।#





























