
মোঃ রিপন মুনসী আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠজুড়ে কাশফুল আর শিউলি ফুলের সুবাসে প্রকৃতিতে বইছে শারদীয় আবহ। এরই মধ্যে বরগুনার আমতলী উপজেলায় শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরি, রং করা, অলংকার সংযোজন, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পী ও আয়োজকেরা। এবার উপজেলায় ১৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।
আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, শিল্পীদের নিপুণ হাতে তৈরি দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা প্রায় পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কোথাও চলছে প্রতিমায় রং করার কাজ, আবার কোথাও চলছে পোশাক, অলংকার ও সাজসজ্জা চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজও এগিয়ে চলছে।
প্রতিমাশিল্পীরা জানান, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে তাঁদের ব্যস্ততা বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাজসজ্জার ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি হরিহর চন্দ্র দাস বলেন, এবার উপজেলায় ১৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন মণ্ডপে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। পূজা উপলক্ষে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, আরতি, গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে। নতুন পোশাক পরে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে উৎসবে অংশ নেবেন ভক্তরা।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ভক্তদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























