
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরোকক্সবাজারের চকরিয়ায় সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়িক বিশ্বাসভঙ্গ ও বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি শাহারিয়ার রোস্তম মানিককে (৩৫) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে বিচারক তাঁকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।কারাগারে পাঠানো শাহারিয়ার রোস্তম মানিক চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া (কাহারিয়া ঘোনা) এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদ বাবুর ছেলে।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম চরপাড়ার প্রবাসী মো. সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল মানিকের। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে জমি কেনার প্রস্তাব দিলে সাদ্দাম প্রথমে মানিককে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। ওই অর্থে জমি ক্রয় করে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিক তাঁর আস্থা অর্জন করেন।এরপর জমি কেনাবেচার ব্যবসায় অংশীদার করার আশ্বাস দিয়ে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ থেকে কয়েক দফায় সাদ্দাম হোসেনের কাছ থেকে আরও মোট ৪৮ লাখ টাকা নেন মানিক। অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থ দিয়ে তিনি জমি ও গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করে লাভবান হলেও পাওনা অর্থ ফেরত দেননি। এছাড়া সাদ্দাম বিদেশে অবস্থানকালে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য নিজের ২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘এফজেড ভার্সন-৩ (১৫০ সিসি)’ মোটরসাইকেলও মানিককে দেন।পরবর্তীতে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে মানিক দাবি করেন, সাদ্দামের পিতাকে ৩ লাখ, স্ত্রীকে ২ লাখ এবং কর্মচারীর বেতন বাবদ ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সে হিসাবে মোটরসাইকেলের মূল্যসহ মানিকের কাছে সাদ্দামের পাওনা দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, মানিক ভয়েস রেকর্ডে মাত্র ২৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করে অবশিষ্ট অর্থের দাবি অস্বীকার করেন।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ২৭ জুন চকরিয়া পৌরসভার থানা স্টেশন এলাকায় পাওনা টাকা চাইতে গেলে মানিক তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে সাদ্দামকে মারধর, হত্যা ও জখমের হুমকির পাশাপাশি জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ারও ভয়ভীতি দেখানো হয়।মামলার বাদী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মানিকের সঙ্গে আমার পারিবারিক ও ভাইয়ের মতো সম্পর্ক ছিল। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে আমার প্রবাসজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পাওনা ৪২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও মোটরসাইকেল ফেরত চাইলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে সালিশে সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার এবং আমার পাওনা অর্থ উদ্ধারের দাবি জানাই।”চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।





























