
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার থানায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও পূর্ববিরোধের জেরে মাসুদ মিয়া (৪০) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগ্নে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের পর প্রধান অভিযুক্ত শিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন কোড়েরপাড় গ্রামে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামেই ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদি দোকানে গেলে ভাগনে শিপন তাঁকে কৌশলে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে দোকান থেকে কিছু দূরে নিয়ে তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করেন। এ সময় দু'জনের ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদ মিয়ার মৃত্যু হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তিন সন্তান রেখে চলে যাওয়ার পর থেকে তিনি ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। এর প্রায় তিন বছর আগে শ্রীকাইল ইউনিয়নের শাহেদাগোপ গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ভাগনে শিপন কৌশলে মামার কাছ থেকে ওই নারীর নম্বর সংগ্রহ করে নিজেও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর শিপনকে মারধর করেন মাসুদ মিয়া। এরপর থেকেই 'ওই নারীকে পাওয়ার জন্য' মামাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিলেন শিপন। সেই বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পরিবার।
এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধান অভিযুক্ত শিপনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























