
স্টাফ রিপোর্টার:
নোয়াখালীর চাটখিলে পূর্ববিরোধের জেরে এক যুবককে অটোরিকশায় তুলে মারধর, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, নগদ টাকা, স্বর্ণের চেইন, হাতঘড়ি ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নুর আলম (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী খোরশেদ নাঈম (২৫)। এ ছাড়া তাঁকে মারধরের পর শার্ট-প্যান্ট খুলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে অভিযুক্ত নুর আলমের মোবাইল ফোনে পাঠানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের কাইতার বাড়ির সামনের সড়ক থেকে তাঁকে অটোরিকশায় তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী খোরশেদ নাঈম উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আফাজ মিয়া পাটোয়ারী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ঢাকায় জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্ত নুর আলম একই ইউনিয়নের বেছা পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার দিন ঢাকা থেকে চাটখিল বাজারে পৌঁছে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে কাইতার বাড়ির সামনে পৌঁছালে পূর্ববিরোধের জের ধরে নুর আলমের নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশাটি থামান। পরে তাঁদের মধ্যে দুজন তাঁর দুই পাশে বসে গামছা দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে মারধর শুরু করেন। অন্যরা অটোরিকশার চালকের পাশে বসেন এবং তাঁকে খিলপাড়া এলাকার দিকে নিয়ে যেতে বলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খিলপাড়া ওহাব কলেজের দিকে যাওয়ার পথে তাঁকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে পাইকপাড়া এলাকার একটি সেতুর পাশের বাগানে নিয়ে লাথি-ঘুষি ও অস্ত্র দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা, রক্তজমাট ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা, প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন (অভিযোগ অনুযায়ী মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা), ৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের একটি হাতঘড়ি এবং ৫৩ হাজার ও ২৪ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মুঠোফোনে নুর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন নুর আলম তাঁকে শার্ট-প্যান্ট খুলিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাঁর পোশাক খুলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে নুর আলমের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
পরে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে বাড়িতে না ফিরে সরাসরি ঢাকায় চলে যেতে বলা হয়। এরপর একটি অটোরিকশায় তুলে তাঁকে বাস কাউন্টারের সামনে নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তাঁরা চাটখিলে এসে তাঁকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
ভুক্তভোগী জানান, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত নুর আলম ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাটখিল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খোরশেদ নাঈম।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




























