
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ছাত্রী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির একই বিভাগের সাবেক ছাত্র নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ফারজানা আত্মহত্যা করেছেন। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত একটার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভূইগড় কবরস্থান সড়কে দেলোয়ারের তিনতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ফারজানার শয়নকক্ষের বিছানার ওপর থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। এতে স্বামীর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা লেখা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিরকুটে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামীর কটূক্তি ও মন্তব্যের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ফারজানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মুসুল্লি বাড়ির রফিকুল ইসলামের মেয়ে। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুল একই বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক ছাত্র।
ফারজানার বড় ভাই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তিন বছর আগে ভালোবেসে নাজমুলকে বিয়ে করেন তাঁর বোন। বিয়ের সময় নাজমুল বেকার থাকায় প্রায় এক বছর ধরে তাঁকে আর্থিক সহায়তা করেছিল ফারজানার পরিবার। পরে নাজমুলের চাকরি হলে সেই সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরিফুলের অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন সময়ে টাকার জন্য নাজমুল ফারজানার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাঁকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে ফারজানা বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে চার মাস অবস্থান করলেও নাজমুল তাঁর খোঁজ নেননি।
পরে ফারজানার পরিবার নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা করে। পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে নাজমুল ফারজানাকে নিজের বাসায় ফিরিয়ে নিয়ে গেলে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় বলে জানান আরিফুল।
তিনি বলেন, গত শনিবার নাজমুলের দুলাভাই তাঁকে ফোন করে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না, জানতে চান। বিষয়টি তিনি ফারজানাকেও জানান। ফারজানা বলেছিলেন, নাজমুল বাসায় ফিরলে তাঁকে এ বিষয়ে বলবেন।
আরিফুলের ভাষ্য, সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে ফারজানার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ১০টার দিকে নাজমুল ফোন করে ফারজানার আত্মহত্যার খবর জানান।
ফারজানার পরিবারের দাবি, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বাসার মালিক আব্দুল কাদের বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাজমুল তাঁকে ডেকে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান। পরে তাঁরা গিয়ে ফারজানাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাঁর দাবি, আগে আরেকটি আত্মহত্যার ঘটনায় মরদেহ নামানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এ ঘটনার সঙ্গে সেটির মিল পাননি।
ফারজানার সহপাঠী নাজমুন নাহার বলেন, নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের পর ফারজানা ও নাজমুলের বিয়ে হয়েছিল। এ কারণে দাম্পত্য জীবনে কোনো সমস্যা হলেও ফারজানা তা সহপাঠীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাইতেন না। ফারজানার একটি প্রেজেন্টেশন ছিল এবং ১৫ নভেম্বর থেকে তাঁর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।




























