
আতিক ফারুকী ,নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে লিজগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়। তাঁর উদ্যোগ ও সরাসরি তদারকিতে এক দিনের ক্যাম্পেইনে ১০৪টি চান্দিনা ভিটির নথি নবায়ন করে ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৫ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করেছে উপজেলা ভূমি অফিস।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মধ্যনগর মধ্যবাজারের উন্মুক্ত স্থানে দিনব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়। লিজগ্রহীতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ক্যাম্পেইনে উপস্থিত থেকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লীজমানি আদায় ও নথি নবায়ন কার্যক্রম তদারকি করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায়। তাঁর উপস্থিতিতে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লিজগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সেবা ও নথি নবায়নের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মধ্যনগর উপজেলায় ২১৩টি চান্দিনা ভিটির বিপরীতে প্রতিবছর লীজমানি পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। তবে এতদিন ধর্মপাশা উপজেলা থেকে এ রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় মধ্যনগরের অনেক লিজগ্রহীতাকে লীজমানি পরিশোধের জন্য দূরে যেতে হতো। এতে সময়মতো রাজস্ব পরিশোধের হার কম ছিল। প্রতিবছর ২১৩টি ভিটির মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২২টির মতো লীজমানি আদায় হতো।
বিষয়টি নজরে আসার পর লিজগ্রহীতাদের সুবিধার্থে মধ্যনগরেই সরাসরি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে লীজমানি আদায়ের উদ্যোগ নেন জনি রায়। এতে লিজগ্রহীতারা নিজ এলাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, নথি নবায়ন ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধের সুযোগ পান।
মধ্যনগর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা গোলাম ছারওয়ার বলেন, ‘লিজগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লীজমানি আদায়ের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। এতে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘মধ্যনগরের ২১৩টি চান্দিনা ভিটির বিপরীতে ধর্মপাশায় বসে প্রতিবছর মাত্র ২০ থেকে ২২টির মতো লীজমানি আদায় হতো। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে লিজগ্রহীতাদের সুবিধার জন্য মধ্যনগরে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১০৪টি চান্দিনা ভিটির নথি নবায়ন করা হয়েছে। এতে নবায়ন ফি হিসেবে ৮ লাখ ৩০ হাজার ২৫ টাকা আদায় হয়েছে। ভবিষ্যতেও লিজগ্রহীতাদের সুবিধা ও সরকারি রাজস্ব আদায় বাড়াতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’





























