
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা পৌর পার্কে স্থাপিত বীর প্রতীক এটিএম খালেদ দুলুর ‘পত্রিকা ফলক’ এখন পার্কে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে হয়ে উঠেছে পাঠ ও জ্ঞানচর্চার আকর্ষণীয় স্থান। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ এখানে এসে পড়ছেন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা। অবসর সময় কাটানোর পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা খবর জানতে পত্রিকা ফলকের সামনে ভিড় করছেন অনেকে। খালেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ১৯৯২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা পৌর পার্কে স্থাপন করা হয় এই পত্রিকা ফলক। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সংবাদপত্র পাঠের আগ্রহ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পার্কে এসে দাঁড়িয়ে পত্রিকা পড়েন। সম্প্রতি পৌর পার্কে গিয়ে দেখা যায়, পত্রিকা ফলকের সামনে কয়েকজন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পড়ছেন। কেউ মনোযোগ দিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবর পড়ছেন, আবার কেউ খুঁজছেন স্থানীয় ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পার্কে আসা অনেকেই ঘোরাঘুরির পাশাপাশি কিছু সময় পত্রিকা পড়ছেন। পার্কে ঘুরতে আসা আসাদ বলেন, “পার্কে এসে পত্রিকা পড়ার সুযোগটি খুবই ভালো লাগে। মোবাইল ফোনে খবর পড়ার পাশাপাশি ছাপা পত্রিকা পড়ার আলাদা আনন্দ আছে। এখানে বসে বিভিন্ন পত্রিকার খবর সহজেই জানা যায়।” শিক্ষার্থী সুজন বলেন, “বর্তমান সময়ে তরুণদের অনেকেই সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পৌর পার্কের এই পত্রিকা ফলক তরুণদের পত্রিকা পড়তে উৎসাহিত করতে পারে। নিয়মিত পত্রিকা পড়লে দেশ ও সমাজ সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ে।” একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বহু বছর ধরে এই পত্রিকা ফলকটি দেখে আসছি। পার্কে আসা মানুষের জন্য এটি একটি ভালো উদ্যোগ। এটি আরও সুন্দরভাবে সংরক্ষণ ও নিয়মিত পত্রিকা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলে পাঠকের সংখ্যা আরও বাড়বে।” খালেদ স্মৃতি সংসদের সংশ্লিষ্টরা জানান, মানুষের মধ্যে সংবাদপত্র পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বীর প্রতীক এটিএম খালেদ দুলুর স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই পত্রিকা ফলকটি স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এটি গাইবান্ধা পৌর পার্কের একটি পরিচিত স্থাপনা হিসেবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই পত্রিকা ফলকটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি নিয়মিত একাধিক জাতীয় দৈনিক রাখার ব্যবস্থা করা হলে এর গুরুত্ব আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সংবাদপত্র পাঠে আগ্রহী করতে পত্রিকা ফলকটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।





























