
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়ন থেকে নয়া বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করে ঈদুল আযহার সরকারি ছুটির সুযোগে গোপনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে এখনো কোনো বৈধ টাইম এক্সটেনশন অনুমোদন না নিয়েই কাজ অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তারা অফিসে না থাকায় তদারকিবিহীনভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া কাজের স্থানে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দেখা যায়নি। এতে কাজের গুণগত মান নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খরিয়ারচর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, “ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে গোপনে কাজ করা হচ্ছে। রাস্তার কাজে যে খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুবই নিম্নমানের। এভাবে কাজ হলে কিছুদিন পরই রাস্তা ভেঙে যাবে।” এ বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী রাজ্জাক বলেন, “এই রাস্তার কাজের মেয়াদ অনেক আগে শেষ হয়েছে। টাইম এক্সটেনশনের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঢাকায় কাগজপত্র পাঠিয়েছে।” তবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া কীভাবে কাজ চলমান রয়েছে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পার্টনার মাসুম দাবি করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমানোর স্বার্থেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূতভাবে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে এবং এর দায় চাপানো হচ্ছে সদর এলজিডি অফিসের ওপর। এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী বাবুলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বারবার ফোন কেটে দেন। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনগণের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনবে না।




























