
আতিক ফয়সাল
বাকেরগঞ্জে মুক্তা হত্যার ঘটনায় একজন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সকল আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (টিএনও) স্যার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদ কামরুজ্জামান মিজান মিয়া ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক দিপু খানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধন শেষে টিএনও স্যার মুক্তার দুই অবুঝ শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নগদ অর্থ প্রদান করে পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
পরকীয়ার অশুভ সন্দেহে ঢাকার খিলক্ষেতে পাষণ্ড স্বামী সোহেল সিকদারের নির্মম ও পৈশাচিক নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছেন দুই সন্তানের জননী মুক্তা আক্তার (২৫)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে বরিশাল-বাকেরগঞ্জে উত্তাল প্রতিবাদ ও মানববন্ধন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের সরসী পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন সড়কে স্থানীয় সর্বস্তরের সচেতন জনতার ব্যানারে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে নিহত মুক্তার শোকাহত স্বজন, এলাকার শত শত নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা রাজপথে একটি জোরালো প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। মিছিল থেকে ঘাতক সোহেল সিকদারের দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার খিলক্ষেতের একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী মুক্তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার ভিত্তিহীন সন্দেহ এনে বেপরোয়া নির্যাতন চালান স্বামী সোহেল সিকদার। নির্যাতনের একপর্যায়ে গুরুতর জখম হয়ে প্রাণ হারান মুক্তা। মৃত্যুর ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ধারণ করা এক হৃদয়বিদারক ও নির্মম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
নিহত মুক্তা আক্তার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সরসী গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের মেজো মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েশিশুর মা ছিলেন। পারিবাারিক সূত্রে জানা গেছে, শেষ বিদায়ের আগে মরদেহ গোসলের সময় মুক্তার সমস্ত শরীরে অমানুষিক নির্যাতনের অগণিত ক্ষতচিহ্ন দেখা গেছে।
মানববন্ধনে নিহতের ভাই তারেক হাওলাদার ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, "স্ত্রীর প্রতি কোনো অভিযোগ থাকলে সোহেল আইনের আশ্রয় নিতে পারত বা বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারত। কিন্তু এভাবে পিটিয়ে একটি মানুষকে মেরে ফেলার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? আজ দুটি অবুঝ শিশু চিরতরে এতিম হয়ে গেল।" মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা এ সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত সোহেল সিকদারসহ পরোক্ষভাবে জড়িত সবার দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের জোর দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ঘটনার পর পরই প্রধান অভিযুক্ত স্বামী সোহেল সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে বাকেরগঞ্জের সরসী গ্রামে এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ, শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।





























