
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলীতে মমতাজ বেগমের দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মামলাটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্বচিলা তালিমুল কুরআন নূরানী মাদ্রাসার সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১ সেপ্টেম্বরের একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মমতাজ বেগম ছয়জনকে আসামি করে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ মামলা করেন। তাদের দাবি, মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত নন। এ কারণে মামলাটি পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার সেক্রেটারি ও সমাজসেবক মো. আরিফ বিশ্বাস বলেন, মামলাটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা। তার দাবি, কিছুদিন আগে মাদ্রাসার এক শিশুকে নিয়ে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় যারা সাক্ষী দিয়েছিলেন, তাদেরই পরবর্তীতে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
স্থানীয় ইলিয়াস বিশ্বাস বলেন, আমরা মনে করি, হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। আমরা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
হারুন বিশ্বাস বলেন, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক। যারা প্রকৃত দোষী, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আব্দুল হাই মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, মমতাজ বেগমের কারণে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
মামলার এক আসামি মোহাম্মদ আনেস গাজী বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আগে সরকারি বিজিএফ কার্ডের নাম দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকা ফেরত চাইলে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরপরই আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
আসামি পক্ষের স্বজন সেতারা বেগম বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও আমার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।
এদিকে মামলার ১ নম্বর সাক্ষী জাফর গাজী বলেন, রাত দুইটার দিকে ডাক-চিৎকার শুনে মমতাজ বেগমের বাড়িতে যাই। সেখানে কুড়ার ঘরে আগুন জ্বলতে দেখি। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। তবে কে আগুন দিয়েছে, তা আমরা দেখিনি।
২ নম্বর সাক্ষী মোশারফ গাজীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, ডাকাডাকি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কুড়ার ঘরের চারপাশে আগুন জ্বলতে দেখি। তবে কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেখতে পাইনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার কুড়ের গাধায় আগুন ও ঘরের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতি করার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি।
স্থানীয়রা বলেন, মামলাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তারা কোনো পক্ষের পক্ষে না গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিরপরাধ কেউ থাকলে তাকে হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



























