
কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর হত্যার শিকার অপ্রীতম এর দাফন সম্পন্ন, মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন।মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে শেষ বিদায় জানান। পরে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসার পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনাটি সম্পর্কে কিছু ক্লু পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে রোববার দুপুর আড়াইটায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করার কথা রয়েছে।রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। পরে বেলা ১১টায় গন্ধমতি এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে উদ্ধারে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কীভাবে এবং কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়।খবর পেয়ে সেখানে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ভিড় করেন। একমাত্র সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত তার মা ড. নাহিদা বেগম ও বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।



























