
গ্রামাঞ্চলে ক্রমেই বাড়ছে ঘাস-খড় কাটা মেশিনের চাহিদা। আর এ চাহিদাকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর বাজারে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক কারখানা। এসব কারখানা থেকে প্রতিদিন একশরও বেশি মেশিন তৈরি হচ্ছে। ৩ শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মাসে ৩ কোটি টাকার উপরে চলে মেশিন বেচা-কেনা। বছরের হিসাবে এই সংখ্যা ৩৬ কোটি টাকার বেশি। খামারি আর কৃষকরাই মেশিনের প্রধান ক্রেতা।
জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার মেইন বাসস্ট্যান্ডে তাকালে চোখে পড়বে সারি সারি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ বা কারখানা। আগে এসব ওয়ার্কশপে শ্যালো-মেশিনের যন্ত্রাংশ, ধান, ভুট্টা ঝাড়া মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি হলেও এখন সে জায়গা দখল করে নিয়েছে গবাদি পশুর ঘাস আর খড় কাটা মেশিন।
ঝিনাইদহের পার্শ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা থেকে রাসেল হোসেন এসেছেন ঘাসকাটার মেশিন কিনতে। তিনি জানান, প্রচলিত পদ্ধতিতে খড় ও ঘাস টুকরো করে কাটা সময়সাপেক্ষ। এতে করে খরচ বাড়ে, সময়ও বেশি লাগে, তাই মেশিন কিনতে এসেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের কাষ্টভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল হাই এই বাজারে তার পুরাতন ঘাসকাটা মেশিন বিক্রি করে আবার নতুন মেশিন কিনেছেন। তিনি জানান, তার ১২টি গরু আছে, আগে বঁটি-ছুরি দিয়ে হাতে ঘাস কাটতেন, আর এখন মেশিনে কাটেন। মেশিনে ঘণ্টায় ১শ থেকে ৩শ কেজি ঘাস-খড় কাটা যায় বলে জানান।
আক্তার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক আক্তারুল আলম বলেন, এখানে কাজ শিখে অনেকেই নতুন নতুন কারখানা তৈরি করছেন। ৩ শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে। গত সাত আট বছর ধরে এখানে ঘাসকাটার মেশিন তৈরি হচ্ছে। আশপাশের জেলা ছাপিয়ে ঘাসকাটা এসব মেশিন যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের নানা প্রান্তে।
ওয়ার্কশপে মেকানিক্যাল কাজ করা মোহাম্মদ তাজু জানায়, আগে ধান ঝাড়া মেশিন, ভুট্টার হলার, ট্রলি এগুলো বেশি তৈরি হতো। তবে চাহিদা বাড়ায় এখন ঘাসকাটা মেশিন বেশি তৈরি হচ্ছে। মেকানিক মিল্টন বলেন, মেশিনের কাঁচামাল ঢাকা, যশোর, কুষ্টিয়া থেকে আনা হয়, জাহাজের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ নানা কাঁচামাল লাগে, এখানেও কিছু কাঁচামাল তৈরি হয়। এসব দিয়েই ঘাসকাটা মেশিনসহ নানা ধরনের মেশিন ও যন্ত্রাংশ তৈরি হচ্ছে।
ওয়ার্কশপ মালিকসহ ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজারটিতে প্রায় ৫০টি ওয়ার্কশপ রয়েছে। এসবের মধ্যে ৩০টি ওয়ার্কশপে গড়ে প্রতিদিন একশটি করে ঘাসকাটার মেশিন তৈরি হচ্ছে।
কোটচাঁদপুরে মেইন বাসস্ট্যান্ডে এসব ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের একটি সংগঠন রয়েছে লোহা ব্যবসায়ী মালিক সমিতি নামে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জানান, মাসে ৩ কোটি টাকার আর বছরে ৩৬ কোটি টাকার কেনা-বেচা হচ্ছে তাদের কারখানাগুলোয়। বিদ্যুচ্চালিত এসব ঘাসকাটা মেশিনের দাম ১০ হাজার টাকা, মেশিনের সঙ্গে ১টি করে হর্স পাওয়ার মোটর ব্যবহার করতে হয়, যার দাম ১০ হাজার টাকা।
নিজস্ব কারখানায় তৈরি কাঁচামালের পাশাপাশি যশোর, কুষ্টিয়া, ঢাকা থেকেও কাঁচামাল এনে এসব মেশিনে যুক্ত করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। সারাদিন তারা ব্যস্ত থাকেন এমন মেশিন তৈরিতে। কেউ পার্টস বানাচ্ছেন, কেউবা রঙ করছেন, কেউবা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। গবাদি পশুর অন্যতম খাবার খড় ও ঘাস, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কৃষি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে এখানকার ঘাসকাটার মেশিন।





























