
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরোকক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে জমি জবরদখল করে পাকা বাউন্ডারি দেয়াল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে। জমিতে নির্মাণকাজে বাধা দেওয়ায় জমির মালিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, হত্যার পর লাশ গুম এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে।এ ঘটনায় জমির মালিক নুর হোসেন আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পরের যোগসাজশে সন্ত্রাসী কায়দায় জমি দখলের চেষ্টা, অনধিকার প্রবেশ, পাকা স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছে।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নুর হোসেন ২০১৮ সালে ৫০৬০ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলামূলে তফসিলভুক্ত জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নিজের নামে জমিটি নামজারি ও জমাভাগ সম্পন্ন করে নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে ভোগদখলে রাখেন তিনি।নুর হোসেনের অভিযোগ, ওই জমির ওপর আসামিদের কোনো বৈধ স্বত্ব বা মালিকানা না থাকলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করা হয়। পরে জমির অংশবিশেষে পাকা বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ এবং বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, নুর হোসেন ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তাদের গালিগালাজ করা এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে কোনো ধরনের দাবি বা প্রতিবাদ করলে নুর হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, হত্যা করে লাশ গুম এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।নুর হোসেনের দাবি, বর্তমানে তিনি বাড়ি থেকে বের হলেও প্রাণনাশের আশঙ্কায় রয়েছেন। এ কারণে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারাসহ দণ্ডবিধির ৫০৬(২) ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।আদালতে দাখিল করা মামলার সঙ্গে জমির খরিদা দলিল, নামজারি খতিয়ান, সরকারি খাজনা পরিশোধের দাখিলা এবং জমিতে নির্মাণকাজের স্থিরচিত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।বাদী নুর হোসেন জানান, মামলার এক নম্বর আসামি ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহেদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়জুল কবির বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর শাহেদুল মোস্তফা আদালতে হাজির হয়ে নুর হোসেনের মালিকানাধীন জমিতে তাঁর কোনো দাবি নেই মর্মে মুচলেকা দেন। মুচলেকায় তিনি ভবিষ্যতে বিরোধীয় জমিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বা দাবি-দাওয়া করবেন না বলেও উল্লেখ করেন।আইনজীবী ফয়জুল কবির আরও জানান, আদালত শাহেদুল মোস্তফার দেওয়া মুচলেকা গ্রহণ করে তাঁকে জামিন প্রদান করেন।এদিকে, মামলার বাদী নুর হোসেন আদালতের কাছে জবরদখল করা জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন।





























