
জাহাঙ্গীর সরদার,বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১০ নম্বর আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর চেয়ারম্যান লিখিত প্রতিবাদে নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তাঁর বক্তব্য নিয়েই প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আলোচনা চলার সময় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলন চরম ঔদ্ধত্য দেখিয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলামকে প্রকাশ্যে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মুর্শিদ আলমকেও হুমকি দিতে ছাড়েননি তিনি। খবরটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কিন্তু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চেয়ারম্যান কবির সংবাদটিকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তড়িঘড়ি প্রতিবাদ বার্তা পাঠান। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, চেয়ারম্যানের সেই প্রতিবাদপত্রেই লুকানো রয়েছে তাঁর স্ববিরোধী বয়ান। লিখিত প্রতিবাদে তিনি দাবি করেন, সভায় স্বাভাবিক আলোচনা হয়েছে এবং কেউ অপমানিত হননি। অথচ পরক্ষণেই আবার সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে বিতর্ককে "ভুল বোঝাবুঝি" হিসেবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন। প্রশাসনিক মহলে এখন তীব্র প্রশ্ন উঠেছে যদি কোনো অপমান বা শিষ্টাচারবহির্ভূত ঘটনাই না ঘটে থাকে, তবে আবার 'ভুল বোঝাবুঝি'র মতো শব্দের আড়ালে লুকানোর অজুহাত খোঁজা কেন? এটি কি অপরাধ ঢাকতে দায়সারা সাফাই নয়? সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সমন্বয় সভা কোনো রাজনৈতিক ময়দান বা হুমকি-ধমকির স্থান নয়। জনপ্রতিনিধিদের কাজ জনগণের কথা প্রশাসনিক নিয়মে উত্থাপন করা, কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। চেয়ারম্যান কবির হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন সভায় একের পর এক সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও উদ্ধত আচরণের ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। কবির হোসেন মিলনের জন্য প্রশাসনিক বিতর্ক বা শৃঙ্খলাভঙ্গ নতুন কিছু নয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভিডব্লিউবি-র (তৎকালীন ভিজিডি) সরকারি চাল চুরির গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার অতীত রেকর্ড রয়েছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম ভূঁইয়া অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যানের স্বজন এবং এলাকায় তাঁর 'ডান হাত' হিসেবে পরিচিত সেলিমের বাড়ি থেকে ১৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেন। সে সময় প্রমাণ মিলেছিল, হতদরিদ্র নারীদের সরকারি চাল আত্মসাৎ করে ওই গোপন স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত নগদ জরিমানা ও কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তৎকালীন সময়েও নিজের অপরাধ ঢাকতে সংবাদমাধ্যমের সামনে নানা মনগড়া গল্প ফেঁদেছিলেন কবির হোসেন মিলন। চাল চুরির সিন্ডিকেট চালানোর যার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তাঁর মুখে 'জনস্বার্থের কথা' কতোটা মানানসই তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ইউএনও অর্ণব দত্ত জানিয়েছেন, সরকারি কোনো সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসৌজন্যমূলক আচরণের সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টির তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রশাসনিক সচেতন মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।




























