
দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ী বাইমাইল চক (হরিণাচালা) যেন
পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। কোনাবাড়ি কাশিমপুর শিল্প অধ্যুষিত এলাকা
হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও সরকারি বন্ধের দিনে বাইমাইল
(হরিণাচালা) চকে শত শত হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা
যায়।
সোমবার (২৬
ফেব্রুয়ারী) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শতশত গার্মেন্টসকর্মীসহ বিভিন্ন
শ্রেণী পেশার মানুষ তার পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। কেউ আবার এসেছেন
প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে। ধানক্ষেতের এক কোনায় বসে প্রিয়জনকে নিয়ে
খাচ্ছেন বাদাম। আবার কেউ কেউ তুলছেন ছবি। অনেকে আবার প্রিয়জনের পচ্ছন্দের
খাবার চটপটি ফুচকা খাওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা আবার মেতেছেন
খোশগল্পে।
স্থানীয়দের
সঙ্গে কথা বলে জানাযায় গত ৫ থেকে ৭ বছর আগেও এই চকটিতে ছিলো ইটভাটা। যার
কালো ধোয়ায় নষ্ট হতো পরিবেশ। আশেপাশের বাসাবাড়িতে থাকতোনা গাছপালা। গাজীপুর
সিটি করপোরেশন হওয়ার পর দফায় দফায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ
অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান আদালত। এরপরেই কোনাবাড়ি এলাকায় প্রায় এক থেকে
দেড়শতাধি ইটভাটা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ওইসব জমিতে বিভিন্ন ফসল ফলাচ্ছেন
কৃষকেরা। সবুজ অরণ্যে ভরে গেছে পুরো মাঠ।
ঘুরতে
আসা স্বপন প্লাস্টিকের রিপন নামে এক শ্রমিক বলেন, পরিবার নিয়ে ঘুরতে
এসেছি। আজকে অফিস বন্ধ থাকায় বাইমাইল চকে খোলামেলা পরিবেশে ঘুরতে ভালো
লাগছে।
শাহনাজ নামে এক
পোশাক শ্রমিক বলেন,সপ্তাহে সাত দিন ডিউটি করার পর একদিন বন্ধু পাই। তাই
দূরে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও ঘরে বন্দি অবস্থায়
থাকে। যার কারণে বাসার পাশে বাইমাইল চক হওয়ায় ঘুরতে আসছি। এখানে ঘুরতে আসলে
মনে হয় গ্রামের বাড়িতে এসেছি।
বাইমাইল চকে (হরিণাচালা) ফুসকার দোকানদার
সুমন মিয়া বলেন,এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছে ভালই বিক্রি করেন। বিশেষ করে বেতনের সময় বেশি বিক্রি হয়।
বাইমাইল
এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও কোনাবাড়ি থানা আওয়ামী কৃষক লীগের সভাপতি মো.
দেলোয়ার হোসেন মুন্না বলেন,বিগত ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে এই মাঠে
সরিষা,ধান,কাউনসহ বিভিন্ন ফসল ফলতো কৃষকর। কিন্তু ইটভাটা হওয়ার পর সব কিছু
বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিগত ৫/৭ বছর আগে ইটভাটা বন্ধ করে দেয় পরিবেশ
অধিদপ্তর এর ভ্রাম্যমান আদালত। এর পর কৃষকদের বুঝিয়ে আবারও ফসল ফলাতে
উদ্বুদ্ধ করা হয় কৃষকদের । এখন বন্ধের দিনে শতশত মানুষ আসে ঘুরতে। খুবই
ভালো লাগে এই দৃশ্য দেখে যেন বড় কোন পর্যটন এলাকা এটি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আব্বাস উদ্দিন খোকন বলেন,
কোনাবাড়ী
অঞ্চলটি শিল্প এলাকা হওয়ায় শুক্রবার এবং সরকারি বন্ধের দিনে পোশাক
শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই চকে ঘুরতে আসেন। ঘুরতে আসা মানুষের
নিরাপত্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর
ঘটনার খবর পাইনি। আশা করছি এমন ধরনের কোন ঘটনা ঘটবে না। কারণ সবাই
পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসে। এর পরও যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে আমরা
দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।





























