
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কোরবানপুর গোলাম মোস্তফা (জি. এম.) উচ্চ বিদ্যালয় একদিনের জন্য পরিণত হয় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাফল্যের এক অনন্য মিলনমেলায়। উৎসবমুখর পরিবেশে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের দুইজন অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষককে দেওয়া হয় বিদায় সম্মাননা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুর রহমান উপস্থিত থাকতে পারেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম. জে. নাইয়ুম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মাহমুদুল ইসলাম, ইংরেজি শিক্ষক মো. আরমান হোসেন ও মো. জুয়েল রানা।
দিনব্যাপী আয়োজনে দৌড়, দীর্ঘলম্ফ, বল নিক্ষেপসহ নানা ক্রীড়া ইভেন্ট এবং মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে অতিথিবৃন্দ পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধিতদের মধ্যে রয়েছেন:- মো: রাকিব হোসেন (২০১২ ব্যাচ) ৪৫তম বিসিএস সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সুপারিশপ্রাপ্ত), মাসিয়াত জাহান লোপা (২০২৩ ব্যাচ) ঢাকা ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে ভর্তিপ্রাপ্ত (২০২৬), তিষমা শর্মা (২০২৪ ব্যাচ) জাতীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় ‘সেরার সেরা’ স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত (২০২৬), ইতি ভৌমিক (২০২৫ ব্যাচ, মানবিক বিভাগ) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় ৭ম স্থান অর্জন ও ট্যালেন্টপুল বৃত্তি, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় মহিমা আক্তার শিখা ‘খ’ গ্রুপে কবিতা আবৃতিতে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত।
এছাড়া আরও ৫ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেড বৃত্তি এবং ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ অর্জন করে বিদ্যালয়ের সাফল্যের ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করায় তাদেরকে সংবর্ধিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক (গণিত) আব্দুস সালাম এবং সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা) মো. নজরুল ইসলাম–কে সম্মাননা জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকের আদর্শ, ত্যাগ ও নিষ্ঠাই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ভিত্তি।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক আবেগঘন ও আনন্দঘন মিলনমেলায়।

























