
মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরা:
ভোলার মনপুরায় চর ফৈজুদ্দিন ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, মামলায় মাদ্রাসার সুপারকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ২ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসার সামনে সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, চর ফৈজুদ্দিন ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বক্তারা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর হাজিরহাটে মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমানে নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমেদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মাওলানা সিহাব উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে মাদ্রাসার সুপার জড়িত নন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “২০ সেপ্টেম্বর হাজিরহাট কোট মসজিদের সামনে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় আমাদের সুপার হুজুর কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় আসামি করা হয়েছে। আমরা দ্রুত এ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
মাদ্রাসার সভাপতি হোসেন হাওলাদার বলেন, “সুপার সাহেবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো বলে আমরা মনে করি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. সামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “চর ফৈজুদ্দিন ফকিরহাট দাখিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সুপারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানাই।”
বক্তারা বলেন, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁরা।
কর্মসূচিতে মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।




























