
আজিজুল ইসলাম:
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর টিপসই নেওয়ার পর তাঁর নামে এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ২ নম্বর পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামের বাসিন্দা মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম (৪৩) প্রায় এক যুগ আগে স্বামীকে হারান। স্বামীর মৃত্যুর পর পাঁচ সন্তানকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তিনি আর বিয়ে করেননি। কয়েক বছর আগে নিজেই ছেলের বিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছেলের বিয়েতে উকিল হিসেবে থাকা প্রতিবেশী আবদুল কদ্দুস (৬৪) বিভিন্ন সময় আছিয়া বেগমের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে স্থানীয় আবদুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তবে আছিয়া বেগম প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আবদুস সাত্তার ওই নারীর কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নেন। প্রায় দেড় মাস আগে সাত্তার ফোন করে আছিয়া বেগমকে জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাগজে স্বাক্ষর দিতে হবে। এরপর নিরক্ষর ওই নারী তাঁর কথামতো সাত্তারের দোকানে গিয়ে কয়েকটি কাগজে টিপসই দিয়ে আসেন।
সম্প্রতি আছিয়া বেগম ও আবদুল কদ্দুসের মধ্যে বিয়ে হয়েছে এমন দাবি করে কিছু কাগজপত্র দেখানো হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর আছিয়া বেগম স্থানীয়দের কাছে ঘটনার প্রতিকার দাবি করেন।
প্রকাশিত একটি কাবিননামায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর উভয়ের সম্মতিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে পৌরসভার নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফার কার্যালয়ে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের কয়েকজন দাবি করেছেন, তাঁরা এমন কোনো বিয়ের বিষয়ে জানেন না।
অন্যদিকে নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দাবি করেছেন, কাবিননামায় থাকা তাঁর সিল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় মোশারফ ও রফিকসহ কয়েকজনের অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আবদুস সাত্তার এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাত্তার সেখানে উপস্থিত হননি বলে তাঁরা জানান। তাঁদের দাবি, পাশের ইউনিয়নের আব্দুল হেকিম নামের আরও একজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত আবদুল কদ্দুসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে আছিয়া বেগমের টিপসই নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আবদুস সাত্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে ফোন করবেন বলে কলটি কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী আছিয়া বেগম বলেন, “আমার বড় বড় সন্তান ও নাতনী রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছে। পরে আমার নামে বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এতে আমি সামাজিকভাবে বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি চাই।”
ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদুল হাসান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





























