
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আলোচনা জোরালো হওয়ার পরই মাঠের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের অধিকাংশ এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। দলীয় সূত্র বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাইবাছাই শেষে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুমোদন দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে বহিষ্কার করা হবে। তবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ে শরিক বা সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রাখা হয়েছে।
জামায়াতের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলটি তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তাই কয়েক মাস ধরেই জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সাংগঠনিক মূল্যায়ন চলছে। কোথায় কে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য, কার জনসম্পৃক্ততা বেশি এবং কার সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে এসব বিবেচনা করেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নতুন মুখকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, মনোনয়ন চূড়ান্ত করার আগে প্রত্যেক প্রার্থীর সাংগঠনিক অতীত, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, জনগ্রহণযোগ্যতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং দলের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। তৃণমূলের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যক্তিগ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু সাংগঠনিক পদ নয়, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এবার বিদ্রোহী প্রার্থীর বিষয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে জামায়াত। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা বলছেন, একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর অন্য কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তা দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল হবে। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এরই মধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের এ বিষয়ে লিখিত ও মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় উপজেলা পর্যায়ে সমমনা বা শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রাখা হয়েছে। দলীয় নেতারা বলছেন, যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে আলোচনার মাধ্যমে একক প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর লক্ষ্য হবে সরকারবিরোধী ভোটের বিভাজন রোধ করা এবং স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া। প্রাথমিকভাবে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের নেতারা সমঝোতা করবেন, পরে এটা কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত করা হবে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে প্রস্তুত জামায়াত। আমাদের প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। এখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের পদধারী কারও অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। কেউ নির্বাচন করতে চাইলেও জনগণ মেনে নেবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘অতীতে জাতীয় নির্বাচনে জোট থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব দলই আলাদাভাবে অংশ নেবে। তাই সিটি করপোরশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরাও এবার এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। কেন্দ্রীয়ভাবে শরিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সমঝোতা হবে না। উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে শরিক দলগুলোর সঙ্গে স্থানীয় নেতারা সমঝোতা করে নির্বাচন করতে পারেন, এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’


































