
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মানিক চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে উপজেলা পর্যায়ের সমাজসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি এক মাসের ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। নির্ধারিত সময় শেষ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তিনি অফিসে যোগদান করেননি। প্রায় তিন মাসেও তিনি কর্মস্থলে ফিরে আসেননি বলে দাবি স্থানীয়দের। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ইন্ডিয়ায় অবস্থান করছেন বলেও এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। ছুটির বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে—০৯-০২-২০২৩ থেকে ৪৫ দিনের ছুটি। ০৮-০২-২০২৪ থেকে ২০ দিনের ছুটি। ১১-০২-২০২৫ থেকে ৯০ দিনের ছুটি।১৬-০৩-২০২৬ থেকে ৩০ দিনের ছুটি এছাড়া অতিরিক্ত ৬৫ দিনের ছুটি অনলাইনে গ্রহণের দাবি উঠলেও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি বা অনুমোদনের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মানিক চন্দ্র রায় মুঠোফোনে জানান, তিনি এক মাসের ছুটি নিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়ায় ছিলেন এবং পরে অনলাইনে আরও ৬৫ দিনের ছুটি গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে কোন দপ্তরে ছুটির আবেদন করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোঃ ইমাম হাসিম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ছুটির রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “যদি কোনো অনিয়ম বা অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা আজাদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন অফিস কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে সীমিত জনবল নিয়েই সেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক শূন্যতার কারণে সেবাপ্রার্থীদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। জেলার সমাজসেবা কার্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় রয়েছে। এসব পদের মধ্যে রয়েছে সরকারি পরিচালক, রেজিস্ট্রেশন অফিসার, প্রবেশন অফিসারসহ মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পদ। জনবল সংকটের এই বাস্তবতার মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র রায়কে ঘিরে দীর্ঘ ছুটি ও প্রশাসনিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, যখন পুরো দপ্তর জনবল সংকটে ভুগছে, তখন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একইসাথে তাঁর পারিবারিক অবস্থান (নিজ জেলা দারিয়াপুর) হওয়ায় তিনি কোনো বিশেষ প্রশাসনিক সুবিধা বা ছাড় পাচ্ছেন কিনা এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একদিকে দীর্ঘমেয়াদি জনবল সংকট, অন্যদিকে প্রশাসনিক উপস্থিতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে সমাজসেবা কার্যক্রমে আস্থা সংকট তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত, জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি, ছুটির অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং সেবাদান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পরিষ্কার করা হোক এবং দায় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।





























