শিরোনাম
কুতুব শাহী মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়, নেই প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা চন্দনাইশে দিনদুপুরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ পিআইও লাকসামের আহমদ উল্লাহ সবুজ ২৮শে অক্টোবর ২০০৬ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নাঙ্গলকোটে জামায়াতের আলোচনা সভা,দোয়া ও বিক্ষোভ মিছিল মুরাদনগরে চোরাই সিএনজি সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার লগী বৈঠা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে লাকসামে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল মুরাদনগরে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত রায়গঞ্জে ২৮ অক্টোবরের স্মরণে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কানুনগোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগের প্রতিবাদে আকবর হোসনের সংবাদ সম্মেলন লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের মৃত্যু
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সাভারে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ ট্যানারি শ্রমিকদের

আলোকিত সকাল প্রতিবেদক
প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | অনলাইন সংস্করণ

Image

রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্পকে সাভারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৭ বছর আগে। তবে চামড়া শিল্পনগরের অবস্থার বিশেষ কোনো পরিবর্তন হয়নি। কমপ্লায়েন্সের অভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় চামড়ার মূল্য কমেছে। আবার ট্যানারির শ্রমিকরাও ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবাসন, চিকিৎসাসহ শ্রমিকদের জীবন-যাপনের মৌলিক চাহিদা পূরণের নেই যথাযথ ব্যবস্থা। অসুখ-বিসুখ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাজেহাল তারা। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে কেউ পরিবারকে গ্রামে পাঠিয়েছেন, কেউ সন্তানকে স্কুলছাড়া করেছেন। শ্রমঘন ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প এলাকাটির ১৫৫টি প্লটে প্রায় ২০০ ট্যানারিতে কর্মরত ৮ হাজার শ্রমিকের জীবন যাচ্ছে এভাবেই।


গত ৮ মে সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যানারিগুলোতে উৎপাদন চলছে। টানাগাড়ি ও ভ্যানে করে ট্যানারিতে আসছে চামড়া। সেই চামড়া কাঁধে বয়ে কারাখানায় ঢোকাচ্ছেন শ্রমিকরা। বেশ কিছু ট্যানারি কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুতি সেরেছে। অনেকে এরই মধ্যে মজুত করেছেন লবণসহ অন্যান্য কাঁচামাল।



তবে এই শিল্পনগরে কর্মরত বেশিরভাগ শ্রমিক জানিয়েছেন, মজুরি বোর্ডের নির্ধারিত গ্রেড নয়, অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের বেতন নির্ধারিত হয়। এছাড়া ওভারটাইম ও ছুটির সুবিধা তারা পান না। তাদের নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা। সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থাও ঠিকমতো করতে পারেন না তারা।



ট্যানারিগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের শ্রমিক কাজ করেন। ফড়িয়া বা দালালরা বাইরে থেকে চামড়া এনে বিভিন্ন ট্যানারিতে প্রক্রিয়াজাত করেন। তারা বেশিরভাগই অস্থায়ী শ্রমিকদের কাজে লাগান। অন্যদিকে অনেক কারখানাও অস্থায়ী শ্রমিকদের ব্যবহার করেন। নবীশ শ্রমিকদের এখানে কোনো বেতন দেওয়া হয় না। তাদের দেওয়া হয় ‘হাত খরচ’। ট্যানারিভেদে স্বল্প অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ৭ হাজার থেকে ৯ হাজার ও অভিজ্ঞ শ্রমিকদের ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়। ট্যানারিগুলোতে নারী শ্রমিকের সংখ্যাও নগণ্য।




সংগঠনগুলো বলছে, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে প্রতি দুই বছর পর পরই দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদন করে আসছে। তবে মালিকরা সব সময়ই পুরো চুক্তি বাস্তবায়নে অনীহা দেখান। যার ফলে শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন।


ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, মালিকদের দুটি সংগঠনের সঙ্গে আমরা প্রায় ২২টি সিবিএ চুক্তি করেছি। প্রতি ২ বছর পর এসব চুক্তি হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি ও সিবিএ চুক্তির যদি বাস্তবায়ন হতো তাহলে শ্রমিকদের সমস্যা দূর হতো। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি আদায়ে চেষ্টা করে যাচ্ছি।



২০১৭ সালে বিসিকের নেতৃত্বে হেমায়েতপুরে চলে আসে ট্যানারিগুলো। তার পরের বছরই ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করে মজুরি বোর্ড। যেখানে ট্যানারি শ্রমিকদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ৫টি গ্রেডে বেতন নির্ধারণ করা হয়। শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয় ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।


তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৬৯ শতাংশ ট্যানারি কোনো গ্রেডিংয়ের ধার ধারে না। ট্যানারি শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ শীর্ষক ওই জরিপে বলা হয়, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ট্যানারি শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি অনেক কম। সাভারে ৩৫টি ট্যানারি শ্রমিকদের মধ্যে জরিপটি করা হয়।




এ নিয়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, চুক্তির শর্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে কোনো শ্রমিকেরই অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে থাকার কথা নয়। তবে স্থায়ী কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ১০ থেকে ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে কাজ করেও ‘স্থায়ী’ হতে পারেননি। দীর্ঘ সময় পরও তাদের অস্থায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করে স্থায়ী শ্রমিকের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা দিতে চাইছেন না মালিকরা।



সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হরিণধরা, ঝাউচর, জাদুরচর এলাকায় বেশিরভাগ ট্যানারি শ্রমিক বাস করেন। তবে একটি অংশের শ্রমিক থাকেন পুরাতন ঢাকায়। তাদের আনা নেওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। ট্যানারির ৩ ও ৪ নং গেটে এসব বাস রাখা হয়।




ওই এলাকায় অ্যাপেক্স ট্যানারি সংলগ্ন চায়ের দোকানে কথা হয় ট্যানারি শ্রমিক আবদুল আহাদের সঙ্গে। বে, অ্যাপেক্সসহ বেশ কিছু ট্যানারিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। এই শ্রমিক বলেন, ন্যূনতম মজুরি পাই না বেশিরভাগ শ্রমিক। যে টাকা বেতন পাই, তা দিয়ে সাভারে সংসার চালানো সম্ভব না। হাজারীবাগ থেকে যারা আসে, তাদের অনেকের নিজস্ব বাসা আছে। তাদের বাসার ভাড়া দেওয়া লাগে না, এ কারণে কিছুটা রয়ে সয়ে চলতে পারে। সাভারে থাকা বেশিরভাগ শ্রমিক ঋণ করে চলে।


তিনি বলেন, হাজারীবাগে ৩-৪ বছর কাজ করেছি। এখানে ৭ বছর ধরে কাজ করছি। আমার মতো শ্রমিকরা ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা বেতন পাই। এই বেতনে সংসার চলে না। করোনার পরে বউ-বাচ্চা বরিশাল পাঠিয়ে দিয়েছি। এত খরচ বেড়েছে যে, বেতন দিয়ে চলে না।


দোকানে বসা আরেক শ্রমিক বলেন, সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে চলে অনেক পরিবার। পরে মাসিক কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করে। আমি একটার কিস্তি চালাই, মাসে ১৮০০ টাকা করে। গত বছর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম।


মাদারীপুরের ডাসার থেকে এসে ভুলুয়া ট্যানারিতে কাজ করছেন শাহজাহান আলী। তিনি থাকছেন ঝাউচর কাঁচাবাজার এলাকার টিনসেডের একটি বাসায়। তিনি বলেন, তিন মাস ধরে কাজ করছি। এখনো বেতন নির্ধারণ করা হয়নি। সামান্য কিছু হাত খরচ ধরা হয়েছে।


বাসা ভাড়া ও থাকা খাওয়ার খরচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে আড়াইহাজার টাকার নিচে কোনো রুম নেই। কোনো রুমে দুজনও থাকে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল মিলিয়ে শুধু থাকাতেই ৪ হাজার টাকা খরচ হয়। খাওয়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একজন শ্রমিকের ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়।



হরিণধরা বাজারে কথা হয় মুদি দোকানি তোফাজ্জেলের সঙ্গে।  তিনি বলেন, ট্যানারি আসায় অনেকেই লাভবান হইছে। যাদের এখানে জমি- বাড়ি ছিল, তাদের সম্পদ বাড়ছে। আর ব্যবসায়ীদের বিপদ বাড়ছে। ট্যানারি শ্রমিকরা বাকি টাকা না দিয়েই সাভার ছেড়ে চলে যায়। টাকা আদায়ে প্রায় প্রতিদিনই শ্রমিকদের সঙ্গে ঝগড়া হয়। টাকা চাইলেই বলে বেতন হয় না, বেতন খরচ হয়ে গেছে।


চলতি মাসের শুরুতে সমতা ট্যানারিতে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তিনটি আঙুল হারান একজন শ্রমিক। প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠাতে হয়। ট্যানারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরিণধরা ও ঝাউচর এলাকায় বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও নেই কোনো বিশেষায়িত হাসপাতাল বা কোনো সরকারি হাসপাতাল। এ কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ও রোগে শ্রমিকদের ঢাকায় ছুটতে হয়। ট্যানারি এলাকায় ৫ থেকে ৬টি হাসপাতাল রয়েছে। ট্যানারির ভেতরে শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসে মাঝে মধ্যে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করে কয়েকটি এনজিও।



সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, শ্রমিকদের জ্বর-ঠান্ডা-চর্মরোগ লেগেই থাকে। এছাড়া কেমিক্যালের দুর্ঘটনার শিকার হন শ্রমিকরা। বেশিরভাগ শ্রমিক রোগ পুশে রাখেন, ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান। অন্যান্য অসুখে মেডিক্যাল ক্যাম্পের বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধের উপর নির্ভরশীল থাকেন তারা।


এ নিয়ে সিপিডির জরিপ বলছে, শ্রমিকদের ৪১ দশমিক ৯ শতাংশ শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ, ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ অ্যালার্জি, ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ চর্মরোগ ও ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ চোখের সমস্যায় ভোগেন।


ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, মালিকদের কাছে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল হাসপাতাল নির্মাণের। মালিকরা আমাদের সাভারে হাসপাতাল করে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন। বাসস্থানের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি।


একই অবস্থা শিক্ষা ব্যবস্থার। ট্যানারি এলাকায় দুটি বেসরকারি স্কুল ও তিনটি সরকারি স্কুল রয়েছে। আরও রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদরাসা। তবে স্কুলের চেয়ে মাদরাসায় শ্রমিকদের সন্তানরা বেশি পড়াশোনা করে।


ঝাউচর আল নূর মডেল একাডেমি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন জানান, তার স্কুলে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত দেড় শতাধিক ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। যার মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন ট্যানারি শ্রমিকের সন্তান।


তিনি বলেন, শ্রমিকদের বাচ্চারা বেশি পড়ে মাদরাসায়। সেখানে খরচ কম, আবার মাদরাসায় সন্তানটি সারাদিন থাকতে পারে। বেশিরভাগ শ্রমিক ও তাদের স্ত্রী বাইরে কাজ করে। স্কুলে ও মাদরাসায় বেতন কাছাকাছি। তবে স্কুলে পড়লে কোচিং, বই খাতার বাড়তি খরচ আছে।


কথা হয় বে ট্যানাররির সেটিং অপারেটর মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে। তিনি দীর্ঘ ৩ যুগ ট্যানারিতে কাজ করছেন। ট্যানারির অনেক উত্থান ও পতন তিনি দেখেছেন। তিনি বলেন, সাভারে এসে আমাদের আশা পূরণ হয়নি। অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে কিছু হয়নি। অন্য কাজ জানি না, নইলে এ পেশা ছেড়ে দিতাম। এখানে যখন আসি, তখন মালিকরা বাসস্থান, স্কুল সব কিছু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কী হয়েছে সেটা সবাই জানে। হাতে গোনা দুই একটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কেউই মজুরি বোর্ডের নিয়মনুযায়ী বেতন দেয় না। মালিকরা লোকসানের কথা বলে। অথচ ট্যানারি করে অনেক মালিককেই জিরো থেকে হিরো হতে দেখেছি। নিয়তি ভেবে সব মেনে নিয়েছি।


ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা মানসম্মত শিক্ষা ও চিকিৎসা পান না। অধিকাংশ শ্রমিক তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করানোর সুযোগ দিতে পারে না। এখন কেউ কেউ যুগের চাহিদানুযায়ী খেয়ে না খেয়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছে। অভাবের তাড়নায় অনেকে ছেলেমেয়েদের কাজে লাগিয়ে দেয়।



তিনি বলেন, চর্মরোগ থেকে শুরু করে এমন কোনো রোগ নেই যা ট্যানারি শ্রমিকদের হয় না। প্রায় শতাধিক কেমিক্যাল ব্যবহার হয়। প্রতিটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শ্বাসকষ্ট, হাইপারটেনশন এসব রোগ শ্রমিকদের ঘরে ঘরে। আশপাশে যেসব ক্লিনিক আছে সেখানে ভালো চিকিৎসক বসে না। শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরির ঘোষণার সময় এসেছে। আমরা ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বেশ কয়েক দফা দাবি জানিয়েছি। এগুলো পূরণ হলে শ্রমিকরা ভালো থাকবে।


তবে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ দাবি করেছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সার্টিফিকেশনের অভাবে চামড়ার মূল্য না পাওয়ায় ট্যানারিগুলো ধুঁকছে।  তিনি বলেন, আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ কমপ্লায়েন্স। এর অভাবে আমাদের শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে আমরা নিজেরা ইটিপি করার চেষ্টা করছি। কিন্তু বিসিক ইটিপি ঠিক মতো করছে না, আবার আমাদের ইটিপি প্রস্তাবনায় অনুমোদন করছে না। বিসিক আমাদের পরিপূর্ণ শিল্পনগরী দিতে পারেনি। ট্যানারি মালিকদের ১৫৪টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের বাসস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তারা দেয়নি।


তিনি আরও বলেন, কমপ্লায়েন্সের অভাবে আমাদের উৎপাদন কমেছে। ইউনিট প্রাইস অনেক কমে গেছে। ২০১৭ সালের আগে দেড় ডলারে চামড়া রপ্তানি করতাম। সেটা এখন ৭০ সেন্টে রপ্তানি করতে হচ্ছে। চামড়ার মূল্য নির্ধারণ আমরা করছি না। সাভারের কোনো ট্যানারি এলডাব্লিউজি সার্টিফিকেট পায়নি।



শ্রমিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনিয়নভুক্ত ট্যানারিগুলো চুক্তি বাস্তবায়ন করছে। ইউনিয়নের বাইরে ছোট ছোট ট্যানারি যেগুলো আছে, তারা রপ্তানি করতে পারছে না। অভ্যন্তরীণভাবে কিছু ব্যবসা করছে। তারা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে পারছে না।


আরও খবর




কুতুব শাহী মসজিদের সৌন্দর্য দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়, নেই প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা

চন্দনাইশে দিনদুপুরে প্রধান শিক্ষকের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট

উলিপুরে টিআইয়ের উপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা: দুই কর্মকর্তার দুই রকম বক্তব্য

কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ পিআইও লাকসামের আহমদ উল্লাহ সবুজ

২৮শে অক্টোবর ২০০৬ বর্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নাঙ্গলকোটে জামায়াতের আলোচনা সভা,দোয়া ও বিক্ষোভ মিছিল

মুরাদনগরে চোরাই সিএনজি সহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

লগী বৈঠা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে লাকসামে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

আড়াইহাজারে দূষণের দায়ে প্রবাসী হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মুরাদনগরে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

রায়গঞ্জে ২৮ অক্টোবরের স্মরণে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নারায়ণগঞ্জে শব্দদূষণ ৪ যানবাহনকে জরিমানা

কানুনগোর বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগের প্রতিবাদে আকবর হোসনের সংবাদ সম্মেলন

লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের মৃত্যু

মুরাদনগরে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পূর্ব অষ্টগ্রামে গুদাম থেকে চাল না তুলেই বিতরণের অভিযোগ,চাল নষ্ট থাকারও দাবি

জনপ্রিয়তার শীর্ষে ১০ নং গড়জরিপা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ জলিল

সুমাইয়া বিরিয়ানি খেয়ে অসুস্থ আইইটি স্কুলের শিক্ষকরা

‘বাবা নির্দোষ, প্রভাবশালীর আক্রোশের শিকার’ জিসান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কালু ড্রাইভারের পরিবারের দাবি

সশস্ত্রবাহিনী বোর্ডের সচিবের সাথে সাক্ষাৎ: সৈনিকদের রেশন ও ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পে’সহ ৫ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা

গাজীপুরের কাশিমপুরে পিকআপসহ আটক ৩ জন কোথায় গেলেন?

গাজীপুরে ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

স্বপ্নের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় গোলজার হোসেনের

রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ,মারধর ও জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেয়ার অভিযোগ

গাজীপুর জেলায় অনুষ্ঠানে অসকস নেতৃবৃন্দের মিলনমেলা

উলিপুরে জমি দখল করে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

রূপগঞ্জে ভূয়া দলিল ও জালিয়াতি করে জমি দখলের প্রতিবাদে মানবববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

অস্ত্রের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ী আলহাজ সোহাগ

শ্যামনগর-কালিগঞ্জে ডিলারদের জিম্মি করে মাসে দেড় লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

নাঙ্গলকোটে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলা-ভাঙচুর,আহত ২

আমতলীতে ১৪৫ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ


এই সম্পর্কিত আরও খবর

পুষ্টি নিরাপত্তায় খাদ্য ফোর্টিফিকেশন জোরদারের আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামী আমিনী গ্রেপ্তার

শিশুদের মালিকানাবোধেই লুকিয়ে আছে জলবায়ু সংকটের সমাধান

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম

কপ৩১-এর প্রস্তুতি: জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিতে সংসদে তরুণদের সম্মেলন

অস্ত্রের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার, বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত পাচ্ছেন ব্যবসায়ী আলহাজ সোহাগ

তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে কষ্টে ফেলা যাবে না: পীর সাহেব চরমোনাই

খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় হাম-ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

গুজব ও উস্কানি রুখে প্রমাণনির্ভর রাজনীতি চর্চার আহ্বানে ঢাকায় প্রচারণা