
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি:পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় অবৈধ শ্যালো মেশিনচালিত একটি করাতকলের বিকট শব্দ, ধুলাবালি ও কম্পনে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নাশির মন্ডল হাট বোসপাড়া এলাকার অন্তত ৩১টি পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগের পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও গত ২০ দিন ধরে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাকে অফিসে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারের পশ্চিম পাশে মো. হকিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি শ্যালো মেশিন দিয়ে করাতকল পরিচালনা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত করাতকল চালানোর ফলে আশপাশের বসতবাড়িতে কাঠের গুঁড়ার ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি তীব্র শব্দ ও কম্পনে অনেক পাকা বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে শিশুদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে, রাতে ঘুমাতে পারছে না ছোট শিশুরা এবং অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।অভিযোগকারী মো. আনছারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করার পর তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ বিন জিয়া গত ২১ জুন দেবীগঞ্জ রেঞ্জ অফিসার মঞ্জুরুল করিমকে তদন্ত প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।তিনি বলেন, “২৪ জুন থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা ২০ দিন আমরা বোদা বন অফিসে গিয়েছি। কিন্তু একদিনও অফিসের তালা খোলা পাইনি। রেঞ্জ অফিসারকে ফোন করলে কখনো অসুস্থ, কখনো বৃষ্টির কারণে, আবার কখনো দিনাজপুরে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন। এই ২০ দিনের মধ্যে একদিনও তিনি অফিসে আসেননি। এমনকি অফিসের স্টাফ আমিনুল ইসলামকেও পাওয়া যায়নি।”লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, করাতকলের বিষয়ে মিল মালিককে জানানো হলে তিনি উল্টো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।এর আগে অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বোদা সদর ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে।ভুক্তভোগীরা দ্রুত অবৈধ করাতকলটি বন্ধ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জানতে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ অফিসার মঞ্জুরুল করিমকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ বলেন, বোদা বন অফিসে গিয়ে মানুষ রেঞ্জ কর্মকর্তাকে পাচ্ছেন না বিষয়টি আমার জানা ছিল না। করাতকলটির বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেটিসহ সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





























