
ইয়ার রহমান আনানঃকক্সবাজার ব্যুরোকক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজাদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত চাচা আবুল হাশেম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের (আইসিইউ) তে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।নিহত আবুল হাশেম পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়া পাড়া গ্রামের মরহুম ইউছুফ আলীর পুত্র এবং চকরিয়া পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড ভরামুহুরী এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ গুরা মিয়া সওদাগরের জামাতা। সাংসারিক জীবনে তিনি ৩ সন্তানের জনক ছিলেন।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, গত সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আবুল হাশেমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় তাঁর দুই ভাতিজা মোহাম্মদ সোহেল ও মোহাম্মদ রাসেল। হামলার একপর্যায়ে ঘাতকরা ধারালো ছুরি দিয়ে আবুল হাশেমের পেটে আঘাত করলে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। হাসপাতালে তিন দিন লড়াই রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে টানা তিন দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ সকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আবুল হাশেমের নৃশংস হত্যায় তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত সোহেল (২২), রাসেল (২৮) এবং নুর মোহাম্মদকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন,এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা।একটি সামান্য পারিবারিক বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণ ঝরে গেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সংযম ও সচেতন থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।





























