
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করা, পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্য কমানো এবং বাজারে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য বন্ধের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন পোল্ট্রি খামারি ও ব্যবসায়ীরা। কর্মসূচির একপর্যায়ে তারা সড়কে ডিম ভেঙে প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর হাইওয়ে সড়কে কিশোরগঞ্জ জেলা পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত শতাধিক খামারি, ডিলার ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পোল্ট্রি খাদ্য, একদিন বয়সী বাচ্চা (ডিওসি), ওষুধ, ভ্যাকসিন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন ও শ্রমিকের ব্যয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে ডিম ও মুরগির দাম পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয় এবং বিক্রয়মূল্যের এই বড় ব্যবধানের কারণে অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।তাদের অভিযোগ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের পাশাপাশি বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়ায় প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদক ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ‘পোল্ট্রি খাদ্যের দাম কমাতে হবে’, ‘কর্পোরেট কোম্পানির ডিম উৎপাদন বন্ধ কর’, ‘খামারিদের রক্ষা কর’, ‘খামারি বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ এবং ‘ডিমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে’—এমন বিভিন্ন দাবিসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পরে নিজেদের উৎপাদিত ডিম সড়কে ভেঙে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।এ সময় খামারিদের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবির মধ্যে রয়েছে—উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় সরকারিভাবে ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, পোল্ট্রি খাদ্য, ডিওসি, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে আনা, বাজারে সিন্ডিকেট ও কারসাজি দমন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ ও সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণ বন্ধ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং পোল্ট্রি শিল্পকে কৃষিভিত্তিক শিল্প হিসেবে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান।মানববন্ধনে কিশোরগঞ্জ জেলা পোল্ট্রি ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মান্না, সহ-সাধারণ সম্পাদক চন্দ্র শেখর সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হাবিবুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ আছির উদ্দীন, দপ্তর সম্পাদক বিল্লাল মিয়া, সদস্য মো. আব্দুল আউয়াল, রুবেল, আলমগীরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীরা বলেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পোল্ট্রি খাতের টিকে থাকা জরুরি। তাই খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা। অন্যথায় সারাদেশের খামারিদের নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।





























