
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা অব্যাহত নদীভাঙনে গাইবান্ধা শহরের নিরাপত্তার প্রধান অবকাঠামো শহররক্ষা বাঁধ এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ঘাঘট নদীর তীব্র স্রোতে ডেভিড কোম্পানি পাড়া সংলগ্ন এলাকায় নদীর সঙ্গে বাঁধের দূরত্ব কমে এসেছে মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুটে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বাঁধ ধসে পড়লে শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও হাজারো মানুষের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভাঙনের চিত্র জেলা প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ.কে.এম. হেদায়েতুল ইসলাম, উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোঃ মুশফিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহমেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পৌরসভার প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে জেলা প্রশাসক ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত স্থান চিহ্নিত করে জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। পরিদর্শনের সময় শহররক্ষা বাঁধের ওপর একটি বালুবাহী বাল্কহেড থেকে বালু ফেলে স্তূপ করে রাখার ঘটনা তাঁর নজরে আসে। বিষয়টিকে বাঁধের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাঁধে কোনো ধরনের অবৈধ দখল বা কার্যক্রম যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশনা দেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ঘাঘট নদীর ভাঙনে শহররক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মুখে পড়ে। অস্থায়ী সংস্কার নয়, স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই এ সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলে মনে করছেন তারা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে গাইবান্ধা শহর বড় ধরনের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহররক্ষা বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























