
সাআদ মাহমুদ | হালুয়াঘাট প্রতিনিধি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫ নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের আইলাতলী গ্রামে রাতের আঁধারে লোকালয়ে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছে একদল বন্য হাতি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাতির দল ধানখেতে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালালে নষ্ট হয়ে যায় কৃষকদের কষ্টার্জিত ধান। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন এলাকার প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের কৃষকরা। স্থানীয়রা জানান, রাতের দিকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে একদল বন্য হাতি আইলাতলী গ্রামের লোকালয়ে প্রবেশ করে। পরে হাতির দল বিভিন্ন ধানখেতে ঢুকে ধানগাছ নষ্ট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। বছরের একমাত্র ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। ভুক্তভোগী কৃষক মো. খুকন মিয়া বলেন, “ধান আমাদের স্বপ্নের ফসল। এই ফসলের ওপরই আমাদের জীবিকা নির্বাহ হয়। এই ফসল যদি হাতি নষ্ট করে ফেলে, তাহলে আমরা খাব কী? আমরা প্রশাসন ও সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চাই।” আরেক কৃষক ইব্রাহীম বলেন, “প্রতি বছর এভাবে পাহাড়ি হাতি এসে কৃষকের স্বপ্ন নষ্ট করে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।” বন্য হাতির এমন আক্রমণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় শিশু, নারী ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। হাতির গতিবিধি নজরে রাখতে অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। এদিকে বন্য হাতির এই আক্রমণের আগেই সীমান্তবর্তী এলাকার একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালমান ওমরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রব ও স্থানীয় কৃষকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, হাতির আক্রমণ থেকে ফসল ও মানুষের বসতবাড়ি রক্ষায় রাতে আলো জ্বালিয়ে হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য তারা কয়েকটি লাইটের আবেদন করেন। এ সময় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালমান ওমর তাদের সমস্যার কথা শুনে প্রতিনিধি দলের চাহিদার তুলনায় আরও বেশি লাইট দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে জানান তারা। কৃষকদের দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্য হাতির লোকালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের সরকারি সহায়তা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্য হাতির বারবার লোকালয়ে প্রবেশ শুধু কৃষকের ফসলের ক্ষতিই করছে না, বরং সীমান্তবর্তী মানুষের জীবন ও জীবিকাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তাই হাতির উপদ্রব ঠেকাতে দ্রুত স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও এলাকাবাসী।




























