
মোঃ সম্রাট আলী দৌলতপুর
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রায় ১৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হচ্ছে বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিষকুন্ডি থেকে জামালপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম সংযোগ মাধ্যম এই সড়কটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন এ পথ ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কাদার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অটোরিকশা ও ভ্যান মাঝপথে আটকে যাচ্ছে, অনেক সময় যাত্রীদের নেমে যানবাহন ঠেলে পার হতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শনিরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা মৌসুম এলেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।”
প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সড়কের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, “গত অর্থবছরে এ সড়কের জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে দ্রুত বরাদ্দ এনে সড়কটির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।





























