
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, বাজিতপুর উপজেলা শাখা। সংগঠনের নেতারা এ সফরকে দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ সফরের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যারও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।এ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল, বাজিতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার মিয়া পৃথক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান।ভিডিও বার্তায় তারা বলেন, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়; বরং দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, জলজ পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর দেশের মৎস্য খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রান্তিক জেলে ও মৎস্যজীবীদের কল্যাণ নিশ্চিত না করে এ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা প্রত্যাশা করেন, সরকারের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত পোনা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং জলাশয় সংরক্ষণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।ভিডিও বার্তায় নজরুল ইসলাম ও মো. কাউছার মিয়া বিশেষভাবে নদী ও উন্মুক্ত জলাশয়ের ইজারা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন। তারা দাবি করেন, দেশের নদী, খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ের ইজারা ব্যবস্থায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা নদী ইজারা ব্যবস্থা আরও উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও জেলেবান্ধব করার আহ্বান জানান, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর পরিবর্তে প্রকৃত মৎস্যজীবীরাই এসব জলাশয় ব্যবহারের সুযোগ পান। তাদের মতে, এতে যেমন মৎস্য উৎপাদন বাড়বে, তেমনি প্রান্তিক জেলে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থারও উন্নতি হবে।নেতৃদ্বয় আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত জেলেরা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই নদী ও জলাশয় ব্যবস্থাপনায় তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহকে সামনে রেখে সরকার যদি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নদী ও উন্মুক্ত জলাশয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার আনে, তাহলে দেশের মৎস্য খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।তারা আরও আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে প্রান্তিক জেলে পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির মতো বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে।ভিডিও বার্তায় নেতারা দেশের নদী-খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয় দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলা, মা মাছ ও পোনা সংরক্ষণ এবং অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকার, প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই দেশের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে।নেতৃদ্বয় বলেন, বাজিতপুর উপজেলার মৎস্যজীবী সমাজ প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরকে ঘিরে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অপেক্ষা করছে। উপজেলা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মৎস্যজীবীরা সফরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন, এ সফর দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ সফরকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও মৎস্যসংশ্লিষ্ট সংগঠনও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ সফরের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জসহ দেশের সামগ্রিক মৎস্য খাতের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের ঘোষণা আসবে।





























