
মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেল ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়ায় গ্রুপ ‘সি’র ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মাতেউস কুনহার জোড়া গোলের সঙ্গে গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। তাই হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা। কার্লো আনচেলত্তি একাদশে দুই পরিবর্তন আনেন। ইগর থিয়াগোর জায়গায় শুরু করেন কুনহা, আর রজার ইবানিয়েসের বদলে রাইটব্যাকে ফেরান দানিলো। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ফল পেয়েছে ব্রাজিল কুনহার কাছ থেকেই।
ম্যাচের শুরুতে হাইতি রক্ষণ বেশ গুছিয়ে রেখেছিল। প্রথম ২০ মিনিটে ব্রাজিলকে খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ দেয়নি তারা। ১২ মিনিটে রাফিনিয়ার শট জালে গেলেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ব্রাজিল।
২৩ মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় সেলেসাওরা। ব্রুনো গিমারায়েসের পাস ধরে বক্সে ঢোকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তাঁর শট হাইতি গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ ঠেকালেও বল বিপজ্জনক জায়গায় পড়ে। সেখানে হানেস দেলক্রোয়া ও কুনহা দুজনেই পা বাড়ান। শেষ পর্যন্ত বল জালে জড়ায় এবং গোলটি যায় কুনহার নামে।
৩৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুনহাই। মাঝমাঠে বল হারানোর পর দ্রুত আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস সামনে এগিয়ে কুনহাকে পাস দেন। প্রথম স্পর্শে কোণ কিছুটা কঠিন হলেও বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড। প্রথম গোলে ভাগ্যের ছোঁয়া থাকলেও দ্বিতীয়টি ছিল নিখুঁত ফিনিশিং।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলের জন্য দুশ্চিন্তার খবরও আসে। অস্বস্তি অনুভব করে ৩৯ মিনিটে মাঠ ছাড়েন রাফিনিয়া। তাঁর জায়গায় নামেন তরুণ রায়ান। নেইমার আগেই চোটের কারণে এই ম্যাচে ছিলেন না। তাই রাফিনিয়ার চোট ব্রাজিল শিবিরের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে মাঠের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে তৃতীয় গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। নিজের অর্ধ থেকে লুকাস পাকেতার দারুণ পাস ধরে হাইতির রক্ষণ পেছনে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি।
বিরতিতে ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখে ব্রাজিল। কুনহাকে ৬৪ মিনিটে তুলে এনে এন্দ্রিককে নামান আনচেলত্তি। একই সময়ে পাকেতার বদলে মাঠে আসেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। সামনে স্কটল্যান্ড ম্যাচ থাকায় কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ নেন ব্রাজিল কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি কিছুটা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে। ৬৪ মিনিটে রিকার্দো আদে কর্নার থেকে হেডে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু আলিসন দুর্দান্ত সেভে ব্রাজিলের জাল অক্ষত রাখেন। এর বাইরে হাইতি খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
শেষ দিকে ব্রাজিল আরও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল। মার্তিনেল্লির একটি শট ক্রসবারে লাগে, আর দগলাস সান্তোসও ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল না হওয়ায় প্রথমার্ধের তিন গোলেই জয় নিশ্চিত করে ব্রাজিল।
এই জয়ে দুই ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট হলো ৪। মরক্কোরও পয়েন্ট ৪, তবে গোল ব্যবধানে ব্রাজিল আপাতত গ্রুপ ‘সি’র শীর্ষে। স্কটল্যান্ডের পয়েন্ট ৩, আর দুই ম্যাচ হেরে হাইতির পয়েন্ট শূন্য। শেষ রাউন্ডে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড, মরক্কো খেলবে হাইতির বিপক্ষে।
মরক্কোর বিপক্ষে অস্বস্তিকর শুরুর পর এই জয় ব্রাজিলকে স্বস্তি দেবে। কুনহার জোড়া গোল, ভিনিসিয়ুসের প্রভাব এবং মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েসের নিয়ন্ত্রণ, সব মিলিয়ে আনচেলত্তির দল ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর, সেই প্রশ্ন এখন ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।






































