
মো কামরুল হোসেন সুমন,মনপুরা:ভোলার মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং বিধিবহির্ভূত ভাবে কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুর রহমান। শনিবার (০৬ জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৪ টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি-না নিয়ে ৪ হাজার টাকার অধিক অর্থ আদায়ের অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সভাপতি থাকাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ও আর্থিক বিষয় সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি। এমনকি তার স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষকদের বিল উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। আব্দুর রহমান বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় তুলে ধরার কারণে প্রধান শিক্ষক আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন। পরবর্তীতে আমাকে কমিটি থেকে বাদ দিয়ে তার নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করেন। আমি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কথা বলেছি, কিন্তু তারই ফলস্বরূপ আমাকে কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ জামাল উদ্দিনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উল্লেখিত অর্থ শিক্ষকদের মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে বণ্টন করা হয়নি। এ অর্থ শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া এবং অন্যান্য প্রাপ্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফি ও অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়ের অর্থ থেকে এসব ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে।” ৭০০ টাকা সেশন ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল, বকেয়া পরিশোধ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহের জন্য এ অর্থ নেওয়া হয়।” এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে আব্দুর রহমান বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুসা-এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সাবেক কমিটির সদস্যরা মনে করছে।





























