
শফিকুল স্টাফ রিপোর্টারঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ হিসেবে আলোচিত শীতলক্ষ্যা নদী তীরবর্তী একটি বালুর গদিকে ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এতদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রিতে বাধা এবং অভিযান চালানো হলেও, সম্প্রতি ওই বালুর গদিটি ‘বৈধতার আওতাভুক্ত’ হয়েছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীদের মনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন—যে বালুর গদিকে এতদিন প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছে এবং জরিমানা করেছে, সেটি হঠাৎ কোন প্রক্রিয়ায় এবং কার ইশারায় বৈধতা পেল? এই বৈধকরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া আদৌ অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নদী তীরবর্তী কোনো স্থানে বালুর ব্যবসা বা মহাল পরিচালনা করতে হলে জেলা প্রশাসনের উন্মুক্ত ইজারা প্রথা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। কিন্তু বরমীর এই বিতর্কিত বালুর গদির ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ বা নথিপত্র এখনো জনসম্মুখে আসেনি।এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই বালুর গদিতে দিন-রাত ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে বরমীর গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে নদী তীরবর্তী এলাকা হওয়ায় তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরমী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, "যদি এই বালুর গদি সত্যিই বৈধ হয়ে থাকে, তবে প্রশাসন কেন তার নথিপত্র ও ইজারার শর্তাবলী জনসম্মুখে প্রকাশ করছে না? ধোঁয়াশা রেখে কোনো অবৈধ কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা বরমীবাসী মেনে নেবে না।"স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সাথে বালুর গদিটির বৈধতার স্বপক্ষে যদি কোনো নথিপত্র থেকে থাকে, তবে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করে সব ধরনের বিভ্রান্তি দূর করা এবং প্রকৃত তথ্য সামনে আনা জরুরি।





























