
নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ১২.০৮.২০২৬ তারিখে নাঙ্গলকোট থানাধীন আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের আটিয়াবাড়ী এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ীতে অর্ধগলিত ১টি লাশ পাওয়া যায়। এই সংক্রান্তে প্রাথমিক তদন্তে ভিকটিম উপজেলার পাটোয়ারের অটোরিকশা চালক মোঃ মেহেদীকে (১৮) সনাক্ত করা হয়। ঐদিনই এই সংক্রান্তে নাঙ্গলকোট থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হওয়ার পর কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনিসুজ্জামান, পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা হত্যার রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ মানিক, শাহেদ, ফাহিম, সেলিম-দেরকে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও গ্রেফতারকৃত অন্যান্য সকল আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে, তারা সকলে মিলে ভিকটিম মোঃ মেহেদীকে হত্যা এবং ভিকটিমের অটোরিকশাটি ছিনতাই করে। ভিকটিমকে হত্যা এবং অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে আসামী আব্দুল ওয়াদুদ (ঘ) মানিক এবং সেলিম বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। প্রকাশ থাকে যে, নাঙ্গলকোট থানার হত্যা মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এর নিকট হতে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়, যে মোবাইল ফোনটি আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এর নয়।
গত ২৪.০৭.২০২৬ খ্রি. তারিখে নাঙ্গলকোট থানায় অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেন (১৫) নিখোঁজ হয়। এই সংক্রান্তে নাঙ্গলকোট থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করা হয়। উক্ত নিখোঁজ ব্যক্তি মোঃ আরমান হোসেন এর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার অনুসন্ধানের সূত্র ধরে জানা যায় নাঙ্গলকোট থানার হত্যা মামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এর নিকট হতে জব্দকৃত মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেনের ছিল।
পরবর্তীতে, উক্ত জব্দকৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে নিখোঁজ অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেন এর সন্ধানে নামে থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ইতিমধ্যে নিখোঁজ অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেন এর অপহরণ সংক্রান্তে তার মামা একটি মামলা রুজু করে। উক্ত মামলার তদন্ত করতে গিয়ে প্রথমে অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেন এর চালিত অটোরিকশাটির কাঁটা বডি উদ্ধার করা হয় এবং মোঃ জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম এবং মোঃ গিয়াস উদ্দিনদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা অটোরিকশাটি আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিম এর নিকট হতে পেয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
ইতিমধ্যে, গত ১২.০৯.২০২৬ খ্রি. তারিখ মনোহরগঞ্জ থানাধীন বিনয়ঘর এলাকায় একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কঙ্গাল উদ্ধারকরা হয়। এই সংক্রান্তে মনোহরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
পরবর্তীতে, নাঙ্গলকোট থানার হত্যা মামলার মূল আসামী গ্রেফতারকৃত ও হাজতী আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এর নিকট হতে জব্দকৃত মোবাইল ফোন এবং গ্রেফতারকৃত আসামী মেঃ জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম এবং মোঃ গিয়াস উদ্দিনদের প্রদত্ত তথ্যের সমন্বয়ে হাজতী আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এবং সেলিমকে অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেন এর অপহরণ সংক্রান্তে নাঙ্গলকোট থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে আনা হয়। আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক এবং সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহৃত ভিকটিম অটোরিকশা চালক মেঃ আরমান হোসেনকে হত্যার করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জ থানাধীন বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। গতকাল অর্থাৎ গত ১৪.০৯.২০২৬ খ্রি. তারিখ আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক অটোরিকশা চালক মোঃ আরমান হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কত্র বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করে।
উল্লেখ্য যে, গত ০২.০৯.২০২৪ খ্রি. তারিখে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ভিকটিম শাহজাহান সাইমন (১৭) কে নৃশংসভাবে হত্যার করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর এর সাথে হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়াটারে ভিকটিম শাহজাহান সাইমন (১৭) এর লাশ ফেলে রাখে। এই সংক্রান্তে লাকসাম থানায় সেপ্টেম্বর/২০২৪ মাসে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলার তদন্তে আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিককে গ্রেফতার করা এবং আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক অটোরিকশা চালক শাহজাহান ও সাইমন (১৭)কে হত্যার কথা স্বীকার করে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করে।
আসামী আব্দুল ওয়াদুদ মানিক একজন সিরয়াল কিলার। সে মূলত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটোরিকশা চালকদের টার্গেট করে অটোরিকশা ছিনতাই এবং হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটায়।



























