
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। গত কিছুদিন আগেই শেষ হয়েছিলো কুমিল্লা অংশের যানজটের ভোগান্তি। দীর্ঘ ১৫-২০ দিনের ভোগান্তি শেষ না হতেই আবার শুরু হল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশাল যানজট। এই যানজটের উৎপত্তি এবার কুমিল্লায় নয়, শুরু হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ার চর ব্রিজ থেকে।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়ার চর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার কুমিল্লার বুড়িচং থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও বিদেশগামী যাত্রীদের ।কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদেশগামী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কারণ অনেক যাত্রীরা ই জানে না এই যানজটের কথা। যার ফলে তারা নির্ধারিত সময় হাতে রেখে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু এই যানজটের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেননা অনেক যাত্রীরা। এদের মধ্যে কারো কারো ফ্লাইট ছিল সন্ধ্যা ৭ টায়, তারা এখনো দাউদকান্দি এলাকায় আটকে আছেন । এআই ক্যামেরার কারণে আমরা উল্টো পথে যেতে পারছি না । অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে সিএনজি এবং অটোরিকশায় করে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু দিতে হচ্ছে ১০০ টাকার ভাড়ার জায়গায় ১ হাজার টাকা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আষাড়িয়ারচর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার চান্দিনার দিকে ঢাকা অভিমুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি জমে গেছে। কোথাও যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চললেও অধিকাংশ স্থানে দীর্ঘ সময় প্রায় স্থবির হয়ে রয়েছে। যানজটের কারণে দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আষাড়িয়ারচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। দিনে দিনে গর্তটি বড় হয়ে ওঠায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। সংস্কারকাজ চলাকালে মহাসড়কের দুই লেনের একটি লেন বন্ধ রেখে অন্য এক লেন দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হয়। ফলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে দীর্ঘ যানজটের রূপ নেয়। রাতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এক লেন দিয়ে পার হতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটলা আকার ধারণ করে এবং এর প্রভাব কুমিল্লা চান্দিনা ও মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, ব্রিজ এলাকায় এসে যানবাহনের গতি একেবারে কমে যাচ্ছে। অনেক গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।আশরাফুল ইসলাম নামে এক বিদেশ গামী যাত্রী বলেন, নিমসার থেকে এক পথচারীর মোটরসাইকেলে করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি । এখন বাজে ৪ টা, আমার ফ্লাইট ৭ টায়। এআই ক্যামেরার কারণে উল্টো পথে গাড়ি চলছে না । চার ঘণ্টায় কুমিল্লা থেকে গৌরীপুর এসেছে, সামনে আরো প্রচণ্ড জ্যাম । যানজটের ভোগান্তির মধ্যেও উঠে এসেছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের। ওমর ফারুক নামে একজন যাত্রী বলেন, একে তো গ্যাস সংকট বলে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছেই এখন আবার গ্যাস সংকটের পাশে যুক্ত হল যানজটের অজুহাত। ২০০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে এক হাজার। আমার জরুরী কাজ থাকায় আমি বাস থেকে নেমে সিএনজি অটোতে করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি। এখানেও গুনতে হয়েছে আমার ৫০০র অধিক টাকা। এদিকে সাধারন মানুষ সড়ক বিভাগের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগ করে বলেন, যখন রাস্তার অবস্থা একেবারেই বেহাল তখন সড়ক বিভাগের মনে পড়ে কাজ করার। অল্প থাকতে কি তাদের সমস্যাগুলো চোখে পড়ে না? অল্প থাকতেই যদি সড়ক বিভাগ এগুলো সংস্কার করে ফেলতো তাহলে এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। সড়ক বিভাগ আরো দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে এবং সরকার সড়ক বিভাগকে আরো ভালোভাবে তদারকি করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়ার চর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কার। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।তিনি আরও জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট চান্দিনা পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসারের কাছাকাছি চলে গেছে । গাড়ি ধীরগতিতে চলছে । আমাদের একাধিক টিম যানজট নিরসনে কাজ করছে ।





























