
চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানায় দায়ের করা ৩২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলায় আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন মেহেদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদেশের অনুলিপি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হবে কি না—এ বিষয়ে তাঁকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
চাঁদপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এক আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর থানার জিআর মামলা নং-১৭২/২৫-এ ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের অভিযোগে সৈকত হোসেন নামে এক আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করেন এপিপি অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন মেহেদী হাসান।
আদালতের আদেশে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতকে আইনগত সহায়তা করা। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালনরত একজন আইনজীবী একই মামলার আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করলে তাঁর পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন দেখা দেয়।
আদেশে আরও বলা হয়, এপিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় ৩২ কেজি গাঁজা উদ্ধারের মামলায় আসামির পক্ষে জামিন চাওয়ার বিষয়টি তাঁর পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
এ কারণে অ্যাডভোকেট মো. জসিম উদ্দিন মেহেদী হাসানকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদেশের অনুলিপি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী ধার্য তারিখে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি অবগতির জন্য আদেশের অনুলিপি চাঁদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বরাবর পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামি সৈকত হোসেনের জামিনের অপব্যবহারের আশঙ্কা এবং তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৯(গ)/৩৮ ধারায় অভিযোগ থাকায় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
আদালতের এ আদেশের পর বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের আইনজীবী মহলে আলোচনা চলছে।






































